শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। প্রায় সাত কিলোমিটার পথ। শনিবার ছুটির দিনেও যেন এ পথ শেষ হওয়ার নয়। মানুষের স্রোত শুধু সামনের দিকে এগিয়েছে। কারও হাতে পতাকা, কারও মাথায় ধানের শীষ, কারও হাতে ঢোল, আবার কারও ঠোঁটে বাঁশি। রঙ-বেরঙের ক্যাপ আর গেঞ্জিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে রাজপথ। স্লোগান, বাদ্য আর উচ্ছ্বাসে মুখর চারপাশ। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে, তবু মানুষের ঢল থামে না।
Advertisement
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ শোভাযাত্রা (র্যালি) বিশাল জনস্রোতে পরিণত হয়। যেন সাত কিলোমিটারজুড়ে সার্বভৌমত্বের এক অন্তহীন মিছিল।
বেলা সোয়া ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালি শুরু হয়। গন্তব্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। র্যালির সামনের অংশ যখন গন্তব্যের কাছাকাছি, পেছনের অংশ তখনো নয়াপল্টন অতিক্রম করেনি।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিছিলের শেষ প্রান্ত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছায়। প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে চলা র্যালিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
র্যালিতে ছিল উৎসবের আমেজ। কারও পরনে ছিল একই রঙের গেঞ্জি, কারও মাথায় দলের প্রতীকসংবলিত ক্যাপ। কেউ আবার মাথায় বেঁধেছেন কাঁচা-পাকা ধানের শীষ। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি পোশাক ও সাজসজ্জায় ছিল বৈচিত্র্য। ছোট-বড়, তরুণ-বৃদ্ধ-সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে রাজপথ হয়ে ওঠে বর্ণিল।
শুধু স্লোগান নয়, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে এগিয়েছে মিছিল। কোথাও ঢোল-বাদ্যের শব্দ, কোথাও বাঁশির সুর। কেউ বাজিয়েছেন তবলা। কেউ আবার হাততালি দিয়ে তাল মিলিয়েছেন। বাদ্যের তালে নেচেছেন অনেকে। কেউ স্লোগান দিয়েছেন, কেউ কণ্ঠ মিলিয়েছেন গানে। পুরো আয়োজনজুড়েই ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর উৎসবের আবহ।
র্যালিতে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও কাঁধে ব্যাগ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা নিজেদের মতো করে অংশ নিয়েছেন এ আয়োজনে। কেউ এসেছেন দলবেঁধে, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। আবার অনেকে এসেছেন শুধু এ বিশাল আয়োজনের অংশ হতে।
নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, শান্তিনগর, বাংলামোটর হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-পুরো পথজুড়েই ছিল মানুষের উপস্থিতি। কোথাও সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ র্যালি দেখেছেন, কোথাও অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে স্লোগানের আওয়াজ।
বিএনপির ঘোষিত র্যালি দলীয় কর্মসূচি হলেও এতে অংশগ্রহণের চিত্র ছিল নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের। কারও চোখে ছিল উচ্ছ্বাস, কারও কণ্ঠে প্রত্যয়ের সুর। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও অনেকের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ ছিল না। বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদই ছিল বেশি।
র্যালির সামনে ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তার নেতৃত্বে পুরো আয়োজন পেয়েছিল রাজনৈতিক আবহ। আর অংশগ্রহণকারীদের বিপুল উপস্থিতি র্যালিকে দেয় ভিন্ন মাত্রা। সন্ধ্যা নামলেও রাজপথের উচ্ছ্বাস কমেনি।
সাত কিলোমিটারের পথ পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেছে মিছিল। কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের আবেগ, স্লোগান আর উৎসবের রেশ ছড়িয়ে ছিল পুরো রাজধানীতে। এ র্যালি তাই শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; হয়ে উঠেছিল মানুষের অংশগ্রহণ, আবেগ ও প্রত্যয়ের এক অন্তহীন মিছিল।












