জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশকে ব্যবসাবান্ধব ও ভবিষ্যতমুখী রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে চীনা বিনিয়োগকারীদের আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তার দীর্ঘদিনের ও বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ চালু করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেন হংবিন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বহু দশকের আস্থা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক কূটনৈতিক সহযোগিতা থেকে উন্নয়ন, বাণিজ্য এবং বর্তমানে শিল্প অংশীদারত্বের নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটি উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় চীনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।
তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে চীনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে। উন্নত উৎপাদন, উচ্চমূল্যের অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নেতৃত্ব দিচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশের জন্য নতুন ও প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্যের প্রয়োজন হবে, আর বাংলাদেশ সেই সম্ভাবনাময় স্থানগুলোর একটি হতে পারে।
তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে তারা যেমন বৈশ্বিক বাজারে কার্যক্রম বাড়াতে পারবে, তেমনি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেও লাভবান হবে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কার্যক্রম সহজ করতে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সরল করা এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন জোরদার করা হচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুযোগ এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষারও আশ্বাস দেন তিনি।
চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ শিল্পভিত্তিক অবকাঠামোর কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে বন্দর সংযোগ, লজিস্টিকস, দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় সেবা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি আরও আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ইতোমধ্যে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ডেস্ক চালু করেছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ সুযোগ, প্রণোদনা ও প্রক্রিয়াসংক্রান্ত তথ্য সহজলভ্য করতে বিশেষ ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে।
চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসার আগেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন এবং বিনিয়োগের আগ্রহ থেকে বাস্তব সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে।
বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন লাইসেন্স অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ১৫ দিনেরও কম সময়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত বস্ত্রশিল্প খাতে বিশেষ প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
বক্তব্যের শেষাংশে চীনকে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক চীনা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা বাংলাদেশের জনগণের সক্ষমতা, সহনশীলতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।













