আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি, বাঁশখালী থেকে
ছবি:সংগৃহীত
বিগত সরকারের আমলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে নেওয়া নানা অদূরদর্শী পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে গুটিকয়েক সুবিধাভোগীর স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্তের খেসারত এখন দেশকে দিতে হচ্ছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে কঠোর সতর্ক থাকতে হবে। অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে সটে পড়বে, কিন্তু চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই সাধারণ মানুষই।’
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আটকে যাবে। কারখানা ঠিকমতো না চললে বা বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, বিগত ৫০ বছরে বিশ্বের অনেক দেশ পরিশ্রম ও সঠিক নীতি দিয়ে বহু দূর এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। এখন আর অহেতুক বিভ্রান্তিতে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, অতীতে যেসব জনবিরোধী পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এ থেকে উত্তরণে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে পুরো ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করেছে এবং আগামী ১০ বছরের সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনা খুব শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে বাঁশখালীতে বন্যায় গৃহহারা ১০০টি অসচ্ছল পরিবারের হাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহনীয় নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদও বক্তব্য দেন। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহায়তার চেক এবং আরও ২০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হয়।













