• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

আইন-আদালত

শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ইমোশনের বিষয় নেই, আইনটাকে প্রয়োগ করব: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:০৮
আপডেট: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:০৮

শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ইমোশনের বিষয় নেই, আইনটাকে প্রয়োগ করব - আইনমন্ত্রী
 

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করণীয়, সেটা আমরা ডিউ প্রসেসে করছি। সেখানে আমাদের আইনসংগতভাবে ডিল করা হবে। এটা দেখবেন যে আমরা যখন কোনো পদক্ষেপ নেব, এখানে ইমোশনের কোনো বিষয় নেই। বিষয়টা হলো, আমি আমার আইনটাকে প্রয়োগ করব।’

আজ রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’–বিষয়ক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকেরা আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ভারতের আদালতে কোনো আইনি লড়াই করা হবে কি না। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এইটা ভারত সরকারের ব্যাপার। বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় আমরা তাদের কাছে রিকোয়েস্ট করেছি। তারা আমাদের হ্যান্ডওভার করলে আমরা তাঁকে ডিউ প্রসেসে যেভাবে আইনের আওতায় সোপর্দ করার দরকার, সেভাবে করব।’

সরকার বন্দিবিনিময় চুক্তির কথা বললেও ভারতে শেখ হাসিনা বন্দী হিসেবে নেই। ভারত তাঁকে রাষ্ট্রীয় অতিথি বলছে। সে ক্ষেত্রে কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাছে উনি অপরাধী। আমাদের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী—এটা হলো আমাদের কাছে তাঁর পরিচয়।…তারা (ভারত) কী বলছেন, তারা বললে তো হবে না! আমার রাষ্ট্রে ওপেন আদালতে বিচার হয়েছে।’

এর আগে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বেশি ক্ষতি করেছে।

এ প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ের সমালোচনা করে বলেন, ওই রায়ের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এটি আর্থিক দুর্নীতির ফল নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ফল।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিচারিক পর্যালোচনার নামে ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রয়োগের বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি বিচার বিভাগ চায়, যেখানে নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার হবে এবং তা জনগণের কাছে দৃশ্যমান হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ও নির্ভরতা বিচারকদের সততা ও নৈতিকতার ওপর নির্ভর করে। রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে বিচারকেরা দায়িত্ব পালন করলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা সহজ হয়। বিচারিক শুদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলে নির্বাহী ও আইন বিভাগেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।

অতীতে বিচার বিভাগে রাজনৈতিক প্রভাব একধরনের স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচারিক শুদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও আধুনিকায়ন, বিচারক ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় ও উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ নির্বাচিত সরকার বাতিল করায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, দ্রুত তার অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনডিপির জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস–বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোমানা শোয়েগার।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম