সুনামগঞ্জ প্রতিধিনি
একুশে পদক প্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১০৬তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের উজানধল গ্রামের খেলার মাঠে দুদিনব্যাপি ‘লোক উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধায় ১৬ তম লোক উৎসবের আলোচনায় সভায় বাউল সম্রাটের পুত্র শাহ নুর জালালের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মামুন।
লোকজ গবেষকসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখবেন।
আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যার পর থেকে বাউল গানের আসর শুরু হয় শেষ বুধবার শেষ রাতে। লোক উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন লোক কবি বাউল ভক্ত অনুরাগীরা। দলগ্রাম লোক কবিদের মিলন মেলায় পরিণত হয়।
বিগত ৩ বছর ধরে বাউল সম্ভ্রাট শাহ পরিষদ এর নিজস্ব অর্থায়নে হয়ে আসছে। এর আগে বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানির সহযোগিতায় লোক উৎসব পরিচালিত হতো। লোক উৎসব আয়োজনে সরকারি পৃষ্টপোষকতাসহ বাউল সম্ভ্রাটে সৃষ্টি রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন বাউল ভক্ত অনুরাগীরা।
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার জীবদ্দশায় ২০০৬ সাল থেকে ধল গ্রামবাসীর উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয় শাহ আব্দুল করিম লোক উৎসব। এরই ধারাবাহিকতায় এটি হচ্ছে ১৬তম লোক উৎসব। বাউল সম্ভ্রাটের জীবদ্দশায় নিজ বাড়িতেই একটি সঙ্গীত বিদ্যালয় করেছিলেন। কিন্তু পৃষ্টপোষকতার অভাবে সেটা এখন অন্ধাকারেই প্রায়। বাউল করিমের গানের চর্চায় বাউল একাডেমি চালুতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন আব্দুল করিমের পরিবার ও তাঁর অনুসারীরা।
বাউল সম্ভ্রাটের অন্যতম শীষ্য বাউল আব্দুর রহমান বলেন,বাউল সম্রাটের শেষ ইচ্ছে ছিলো তার প্রতিষ্টিত সঙ্গিত বিদ্যালয়টিতে তার শিষ্যরা সঙ্গিত চর্চা করবে। কিন্তু প্রতিষ্টানটি বর্তমানে অন্ধারে নিমজ্জিত। সরকার যদি এই প্রতিষ্টানটিকে একটু সুনজর দেন তাহলে এটা আবার চালু হতে পারে।
একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও প্রাকৃতিক ভাবেই শিক্ষিত সাধক বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। তার রচনায় ফুটে উঠেছে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা, আছে শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত মানুষের অধিকারের কথা। একুশে পদক প্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। তার দর্শন, চিন্তা ও চেতনায় গণ-মানুষের পক্ষে গানকে তিনি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
বাউল সম্রাটের গানগুলো সঠিক সুরে এখন অনেকেই গায় না। ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বাউল শিল্পী সিরাজ উদ্দীন। করিমের প্রকৃত সুুর ও কথা ঠিক রেখে গান গাইতে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি অনুরোধ করেন এই বাউল।
লোক উৎসব আয়োজনে সরকারের সহযোগিতা কামনা করে বাউল সম্রাটের পুত্র শাহ নুর জালাল বলেন, আমার বাবা সারাজীবন মানুষের জন্য গান গেয়েগেছেন। শোষন আর নিপীড়িত মানুষের গান গেয়েছেন। বাউল করিম কেবল আমার সম্পদ নয় তিনি দেশে তথা বিশ্ববাসীর সম্পদ। প্রতিবছর বাবার রেখে যাওয়া উৎসব করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার সামর্থ নেই। আগামীতে উৎসব আয়োজনে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, যে যেভাবে পারছে আমার বাবার রচিত গানগুলোকে বিকৃত সুরে গাইছে। তাই আমার আবারো অনুরোধ আপনারা যারাই আমার বাবার গান গাইবেন অন্তত বাবার স্মৃতি রক্ষার্থে প্রকৃত সুরে গান গাইবেন।
বাউল করিম জন্মদিবস স্মরনে লোক উৎসব ঘিরে উজানধল মাঠে গ্রামীন মেলা বসে।













