শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
এদেশের পীর-মাশায়েখরা ইসলাম বিক্রি করতে আসেননি, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতেই এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আমিরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)।
তিনি বলেন, ‘পীর-মাশায়েখদের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক শিক্ষা দেওয়া, ইসলামের আদর্শে জীবন গঠন করা এবং সমাজে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা। তাদের কাজ কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা দুনিয়াবি লাভের জন্য নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষের আত্মিক ও নৈতিক সংশোধনের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘পীর-মাশায়েখ ও প্রকৃত আল্লাহওয়ালাগণ যুগে যুগে মানুষকে দ্বীনের পথে পরিচালিত করেছেন। তাদের শিক্ষা ও দিকনির্দেশনায় মানুষ অন্যায়, পাপাচার ও অসৎকর্ম থেকে ফিরে এসে সুন্দর জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পায়। তাই পীর-মাশায়েখদের অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এবং তাঁদের কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।’
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর চকবাজারের কামালবাগ, মদিনা মার্কেট সংলগ্ন সড়কে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন ও ঈছালে ছাওয়াব উপলক্ষে আয়োজিত ২০তম বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ইসলাম শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। মানুষের মধ্যে তাকওয়া, পরহেজগারি, সততা, আমানতদারি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই দ্বীনি মুরব্বিদের অন্যতম দায়িত্ব। এ জন্য সবাইকে সহিহ দ্বীনি শিক্ষা অর্জন, আল্লাহর জিকির এবং নেক আমলের প্রতি যত্নবান হতে হবে।’
বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ ঢাকা দক্ষিণ ও কামালবাগ এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর হুজুর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাজী মো. হুমায়ুন কবির। এ সময় স্থানীয় আলেম-উলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, জমইয়াতে হিযবুল্লাহর নেতা-কর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিলে পীর হুজুরের সঙ্গী উলামায়ে কেরাম ওয়াজ-নসিহত পেশ করেন। আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।












