• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

অর্থ-বাণিজ্য

ঈদের আগে স্বপ্ন পুড়ে শেষ

প্রকাশ: বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৩ ৮:৫০
আপডেট: বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৩ ৮:৫০

 

গতকাল বেলা ১১টা। তখনো দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে রাজধানীর বঙ্গবাজারে। নিজের পুড়ে যাওয়া দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছেন আর রহমান শাড়ি বিতানের মালিক মনজিল আহাদ। জানালেন, সোমবার রাতেও প্রায় ৪ লাখ টাকার মাল ঢুকেছে গোডাউনে। দোকান আর গোডাউন মিলিয়ে ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছাই হয়ে গেছে এই আগুনে। কথা বলতে বলতে হাতে থাকা দোকানের চাবি ছুড়ে মারেন আগুনে, বলেন, এই চাবি দিয়ে আর কী হবে। কাঁদতে কাঁদতে আহাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শুধুমাত্র এই একটা মাস নিয়েই আমাদের অনেক স্বপ্ন থাকে। এই মাসেই নির্ধারণ হয় সারা বছরের লাভ লসের হিসাব। এবার তো হিসাবের খাতাটাও পুড়ে গেছে।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সামনের ফুটপাতে নিজের ১০ বছরের মেয়ে হাফসাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন এক্সেসরিজ ওয়ার্ল্ডের মালিক নজরুল ইসলাম। বাবার দোকান পুড়তে দেখে কাঁদছে হাফসাও। কাঁদতে কাঁদতে নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঈদে মানুষের জন্য নতুন জামা তৈরি করি। এবার হয়তো আমার পরিবারের কেউই নতুন জামা পরতে পারবে না। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।শুধু আহাদ বা নজরুল নয়, বঙ্গবাজারের এই আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ৫ হাজারের বেশি ব্যবসায়ীর স্বপ্ন। অনেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ধার-দেনা করে মালামাল তুলেছেন দোকানে। কেউ ব্যাংক ঋণ, কেউ আবার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে পুঁজি বাড়িয়েছেন। শর্ত ছিল ঈদের পরই টাকা পরিশোধ করবেন। সেই শর্ত হয়তো আর পূরণ করতে পারবেন না অনেকে। ব্যবসায়ীরা জানান, সারা বছর ব্যবসা করে কোনোভাবে দোকান চালিয়ে রাখি আমরা। এই একটা মাসেই আমাদের সারা বছরের লাভ-লসের হিসাব করা হয়। রমজানের এই মাস ব্যবসায়ীদের জন্য সিজন হিসেবে পরিচিত। বঙ্গবাজারে আগুন লাগার খবরে ছুটে এসেছেন দোকানদারদের পরিবারের সদস্যরাও। তাদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বঙ্গবাজারের আশপাশের এলাকা।

এই আগুনে স্বপ্ন পুড়েছে দোকান কর্মচারীদেরও। প্রায় ৫০ হাজার কর্মচারী বেকার হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বেতন-বোনাস যেন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আগুনে দোকান মালিক, কর্মচারীদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিভিন্ন কারখানার মালিকও। নিজেদের পাওনা টাকা আদায় নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। জানতে চাইলে ১১৮০ নম্বর দোকানের মালিক আবদুর রহমান বলেন, এই মার্কেটে আমার তিনটি গোডাউন, দুটি দোকান। গত রাতেও (সোমবার রাতে) ১১ লাখ টাকার মালামাল এসেছে। আমি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেলাম। সব কিছু শেষ হয়ে গেছে আমার। আমার মতো হাজারো ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে গেছে এই আগুনে। ফায়ার সার্ভিসের প্রতি দোষারোপ করে তিনি বলেন, প্রথমে বঙ্গবাজারের আদর্শ মার্কেটে আগুন লাগে। এখন ফায়ার সার্ভিস (সকাল সোয়া ১১টা) যেভাবে কাজ করছে, শুরু থেকে যদি এমন গুরুত্ব দিত, তাহলে হয়তো অনেকের দোকানই বেঁচে যেত। আমাদের পরিবারগুলো বাঁচতো। একটা সুতাও দোকান থেকে বের করতে পারি নাই।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম