• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

সারাদেশ

জালিয়াতি নিজের নামে রেলওয়েতে প্রায় কোটি টাকার বিল, জানেনই না গৃহিণী কোহিনূর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৫৯
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৫৯

জালিয়াতি নিজের নামে রেলওয়েতে প্রায় কোটি টাকার বিল, জানেনই না গৃহিণী কোহিনূর
 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

 

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন কোহিনূর আক্তার। দস্তখত ছাড়া অন্য কিছু লিখতে পারেন না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যালয়েও কখনো যাননি। অথচ তাঁর নামেই নেওয়া হয়েছে ট্রেড লাইসেন্স। খোলা হয়েছে ব্যাংক হিসাব। সেই হিসেবে জমা হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার চেক। পরে বিভিন্ন সময়ে তুলে নেওয়া হয়েছে পুরো টাকা।

এত বড় অঙ্কের বিল, ব্যাংক হিসাব কিংবা টাকা উত্তোলনের বিষয়ে কিছুই জানতেন না কোহিনূর আক্তার। এ ঘটনায় রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ের হিসাব থেকে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। ‘দ্য কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিলের বিপরীতে চেকটি ইস্যু দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিতে ওই বিলের সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে চেকের টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তুলে নেওয়া হয়।দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চকবাজার ওয়ার্ডে সরবরাহকারী শ্রেণিতে একটি ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনকারী হিসেবে কোহিনূর আক্তারের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

দুদকের মামলায় রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হচ্ছেন রেলওয়ের সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মো. মেহেদী হাসান, খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, মো. আবু নাছের ও মো. মামুন হোসেন, অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান এবং অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপ–কর কর্মকর্তা এম মনজুর উদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এ ছাড়া সীমান্ত ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ারকে আসামি করা হয়েছে।

কোহিনূরের পরিচয় ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স

দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চকবাজার ওয়ার্ডে সরবরাহকারী শ্রেণিতে একটি ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনকারী হিসেবে কোহিনূর আক্তারের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

কোহিনূর আক্তার দুদককে জানান, তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। স্বাক্ষর ছাড়া তেমন কিছু লিখতে পারেন না। তাঁর নামে কোনো ব্যাংক হিসাব নেই। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যালয়েও কখনো যাননি।

অথচ তাঁর নাম ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়। দুদকের অনুসন্ধানে লাইসেন্সের আবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবির অমিল পাওয়া যায়। লাইসেন্সে উল্লেখ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি সরেজমিনে। অর্থাৎ যাঁর নামে ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে, সেই নারীই লাইসেন্স গ্রহণের বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

ট্রেড লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি ব্যবহার করে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দ্য কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামে একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। এজাহারে বলা হয়েছে, হিসাব খোলার আবেদনে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছিল।

এজাহার অনুযায়ী, ওই হিসাব খোলার সময় কোহিনূর আক্তারের পরিচয় ব্যবহার করা হলেও তিনি নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর নামে কোনো ব্যাংক হিসাব নেই। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার নথির এই অসংগতি কীভাবে তৈরি হলো, তা তদন্তে খতিয়ে দেখার বিষয়।

দুদকের অনুসন্ধানে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএস), পাহাড়তলী দপ্তরের সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা হয়। এতে ‘দ্য কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে তৈরি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার বিলের পক্ষে প্রয়োজনীয় রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, বিল যাচাই, অনুমোদন ও চেক ইস্যুর বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যথাযথ যাচাই-বাছাই করেননি। ফলে প্রয়োজনীয় নথির সমর্থন না থাকা সত্ত্বেও সরকারি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি কথিত সোহাগ আলী ‘দ্য কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর কর্মী পরিচয়ে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় জমা দেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে হিসাব থেকে টাকা তোলা হয়।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম