• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

রাজনীতি

ঢাকায় মেয়র পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস, তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:১৯
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:১৯

ঢাকায় মেয়র পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস, তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী
 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী অনেকটাই চূড়ান্ত। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দুই সিটিতে তাদের পছন্দের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। দুটি দলই কৌশলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করবে না। তারা প্রার্থী বাছাই করে সমর্থন দেবে। ফলে ব্যালটে দলীয় প্রতীক না থাকলেও ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, তারা ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে মো. শফিকুল ইসলাম খান ও দক্ষিণে মো. আবদুস সালামের নাম প্রায় চূড়ান্ত করেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁদের দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সময়ই নাগরিক সেবার পাশাপাশি তাঁদের সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিএনপি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা না করলেও দুই সিটিতে তাদের প্রার্থী নিয়ে তেমন কোনো টানাপোড়েন নেই।

এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করবে না। তারা প্রার্থী বাছাই করে সমর্থন দেবে। ফলে ব্যালটে দলীয় প্রতীক না থাকলেও ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্জীব হয়ে পড়েছিল। এখন সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। চেষ্টা করছি, নাগরিকদের সুযোগ–সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার।’

নির্বাচন ও নাগরিক সেবা—দুটোর জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘জনগণ যা চায়, সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছি। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

যদিও বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, আপাতত দুজনই ঠিক আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা এখনই বলা মুশকিল। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নানা মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ হবে।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সময়ই নাগরিক সেবার পাশাপাশি তাঁদের সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিএনপি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা না করলেও দুই সিটিতে তাদের প্রার্থী নিয়ে তেমন কোনো টানাপোড়েন নেই।
জামায়াতের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত
প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে পছন্দের প্রার্থী অনেকটা নিশ্চিত। তারা ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থন দেবে। সেলিম উদ্দিন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের শাখার আমির এবং সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি। গত জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য।

এর আগে সেলিম উদ্দিন সিলেট–৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। অন্যদিকে সাদিক কায়েমের নির্বাচনী পরিচিতি মূলত ডাকসুর ছাত্ররাজনীতিকেন্দ্রিক।

ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থন দেবে। সেলিম উদ্দিন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের শাখার আমির এবং সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি। গত জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য।
জামায়াতে ইসলামীর একজন দায়িত্বশীল নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সাদিক কায়েম যেহেতু এখনো ডাকসুর প্রতিনিধিত্ব করছেন, সে কারণে জামায়াতে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণটা প্রকাশ্য হচ্ছে না।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং তিনি খুব সাড়া পাচ্ছেন। আমরা আশাবাদী, নগরবাসী তাঁকে বিজয়ী করে তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগোবেন।’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল ঢাকায় দলীয় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তাঁরা সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতেও দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তিনি গণমাধ্যমের সূত্র উল্লেখ করে উত্তরে সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে সাদিক কায়েম প্রার্থী বলে জানান।

প্রথম নির্বাচনে আসিফ, আবার ভোটের মাঠে পাটওয়ারী
এনসিপি দুই সিটিতে সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত রোববার দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেন।

আসিফ মাহমুদের জন্য এটি হবে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম পরীক্ষা। সংসদ বা স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়েই তিনি আগে নির্বাচন করেননি। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। সিটি নির্বাচন সামনে রেখে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেদের ভোটার এলাকাও পরিবর্তন করেছেন। আসিফ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ও পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। এরপরই তাঁদের দুই সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

এনসিপি দুই সিটিতে সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত রোববার দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেন।

তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বিএনপি সামনে রাখছে সিটি প্রশাসনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দুজনকে। জামায়াতের উত্তরের প্রার্থী নগর সংগঠনের নেতা, দক্ষিণের প্রার্থী ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ। যদিও বিএনপির দক্ষিণের প্রার্থী আবদুস সালামও একজন ভালো সংগঠক। তিনি দীর্ঘ সময় মহানগর দক্ষিণে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রও ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। আর উত্তরের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা–১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। আর এনসিপি বেছে নিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সম্মুখসারির দুই মুখকে।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন তাই তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরীক্ষাও হতে পারে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সংগঠন নাকি নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি—কোনটি ভোটারদের বেশি টানে, তা বোঝা যাবে ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেবে না। তবে তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, স্থানীয়ভাবে যিনি জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য, তাঁকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন কতটা ভোটে প্রভাব ফেলে, সেটিও বড় প্রশ্ন।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন তাই তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরীক্ষাও হতে পারে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সংগঠন নাকি নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি—কোনটি ভোটারদের বেশি টানে, তা বোঝা যাবে নির্বাচনে।

আ/আ

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম