• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

খেলা

বিসিবিতে পুরোনো ভূত!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:০১
আপডেট: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:০১

 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
সুজন মাহমুদের নাম মনে আছে? কোনো তারকা ক্রিকেটার না হয়েও তিনি তারকা খ্যাতি পেয়েছিলেন! তার সেই তারকা খ্যাতি হওয়াটা ছিল অন্য রকম। ২০‌১৭ সালে এপ্রিল মাসে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে এক্সিওম ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে চরম পক্ষপাতিত্বমূলক আম্পায়ারিংয়ে প্রতিবাদ স্বরূপ লালমাটিয়া ক্লাবের হয়ে সুজন মাহমুদ মাত্র ৪ বলে ৯২ রান দিয়েছিলেন। যেখানে ছিল ৬৫টি ওয়াইড বল, ১৫টি নো বল। বৈধ বল ছিল ৩টি। সেখান থেকে রান এসেছিল ৩ বাউন্ডারিতে ১২। এক্সিওম ক্রিকেটার্সের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯২ রানের। এই ঘটনায় সর্বত্র সাড়া পড়ে যায়। টনক নড়ে বিসিবির। কিন্তু তারা প্রকৃত ঘটনায় না গিয়ে সুজন মাহমুদকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি লালমাটিয়া ক্লাবকেও আজীবন নিষিদ্ধ করেছিল। একই বছর ফেয়ার ফাইটার্সের তাসনিম হাসানও একইভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদ হিসেবে ১ বলে ৬৯ রান দিয়ে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। এসব ঘটনায় আম্পায়ারদের লঘু শাস্তি হলেও পক্ষপাতিত্বমূলক আম্পায়ারিং বন্ধ ছিল অনেক দিন। কিংবা হলেও এ রকম প্রকাশ্যে হয়নি। তবে অনেক দিন পর আবার পক্ষপাতিত্বমূলক আম্পায়ারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।

তামিম ইকবালের ক্রিকেট বোর্ডে আবার সেই ভূত চেপে বসেছে! তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেট লিগের নক আউট পর্বের একটি ম্যাচে বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কের বিপক্ষে মিরপুর ওয়ারিয়ার্স ক্লাব আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যায়। এই ঘটনা তামিম ইকবালের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার পথে আন্তরিক চেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে?

১৭ অক্টোবর পূর্বাচল ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কের ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৬ রানের জবাব দিতে নেমে মিরপুর ওয়ারিয়ার্স ১১ ওভারে ৭ উইকেটে ৫৩ রান করার পর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যায়। মিরপুর ওয়ারিয়ার্সের ইনিংসের ১১ নম্বর ওভার করছিলেন বসুন্ধরার মানাদি। তার আগের বলে শেখ মাহাদি হাসান একটি ছক্কা মেরেছিলেন। পঞ্চম বলে তিনি এক রান নেওয়ার জন্য ছোটেন। কিন্তু রান নিতে গিয়ে তিনি বোলার দ্ধারা বাধাগ্রস্ত হয়ে ক্রিজে পৌঁছাতে পারেননি। বল ধরে সেই বোলারই তাকে রান আউট হরেন। ব্যাটারকে রান নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মিরপুর ওয়ারিয়ার্সের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আম্পায়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ সময় আম্পায়ার ছিলেন মাহমুদুল হাসান রুবেল। কিন্তু তিনি তাদের আবেদনে সাড়া দেননি। আইসিসির আইনের ৪১.৫ ধারায় উল্লেখ আছে. “ফিল্ডিং দলের কোনো সদস্য (যেমন-বোলার বা অন্য কোনো ফিল্ডার) যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কথা, শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ব্যাটারের মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করেন কিংবা রান নিতে বাধা দেন, তবে সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ‘ডেড বল’ (Dead ball) হিসেবে গণ্য হবে।”ঘড়ি কিনুন

সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে আম্পায়ার লেগ আম্পায়ারের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা করেননি বলেও মিরপুর ওয়ারিয়ার্সের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মিরপুর ওয়ারিয়ার্সের ম্যানেজার ও ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক এম এইচ সোহাগ খবরের কাগজকে জানান, আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর তারা চতুর্থ আম্পায়ারের (মো. মারুফ হাসান) কাছে যান। তিনি ম্যাচ রেফারি সৈয়দ মাহবুবউল্লাহর কাছে যেতে বলেন। সেখানে ভিডিওতে বিষয়টি দেখা হবে বলে চতুর্থ রেফারি জানান। এরপর তারা ম্যাচ রেফারির কাছে যান। তাদের বারবার অনুরোধের পর ম্যাচ রেফারি ভিডিওতে দেখতে থাকেন। কিন্তু এর মাঝে ফিল্ড আম্পায়ার মাহমুদুল হাসান রুবেল মিরপুর ওয়ারিয়ার্সের ব্যাটারদের নামতে বলেন। না নামলে টাইমড আউট দেওয়া হবে বলে জানালে দলের ছোট ছোট ক্রিকেটাররা ভয় পেয়ে যান। পরে গাজী আব্দুস সালাম ব্যাটিং করতে চলে যান। একটি বলও খেলে ফেলেন। বিষয়টি এ সময় খেয়াল করা হয়নি। এরপর ম্যাচ রেফারি জানান যে, ব্যাটারকে ইচ্ছাকৃতভাবে রান নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাই এটি আউট হবে না। কিন্তু এর মাঝে একটি বল খেলা হয়ে যাওয়ার কারণে শেখ মেহেদি হাসানকে ফিল্ড আম্পায়ার আর ব্যাটিং করার অনুমতি দেননি। সঠিক বিচার পাওয়া যাবে না–তাই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

এস এম সোহাগ আরও জানান, আম্পায়ার্স কমিটির সদস্য সচিব আহসানুর রহমান মল্লিক রনি মাঠে গিয়ে প্রভাবিত করেছেন। তিনি বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কের কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছেন। দেখে নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন।

আম্পায়ার্স কমিটির সদস্য সচিব আহসানুর রহমান মল্লিক রনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি পূর্বাচলে গিয়েছিলাম হাঁস খেতে। সেখান থেকে মাঠে গিয়েছিলাম সদস্য সচিব হিসেবে–কোনো ক্লাবের প্রতিনিধি হয়ে যাইনি। আমি তাদের সঙ্গে কোনো রকম বাজে ব্যবহার করিনি। কোনো রকম হুমকিও দেইনি। খেলার পরিস্থিতি অনুযায়ী আমি তাদের ক্রিকেটের আইন সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করে খেলার জন্য বলেছি। ম্যাচের যে অবস্থা ছিল, তাতে সেখান থেকে তাদের ম্যাচ জেতা কঠিনই ছিল। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ঠিক না।’

আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, ‘আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক। প্রয়োজনে ভিডিও দেখতে পারেন। বিসিবির পক্ষ থেকে আম্পায়ারিংয়ের মান উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিমত থাকলে তারা লিখিত অভিযোগ দিতে পারতেন। কিন্তু তারা তো কোনো অভিযোগ দেননি। মিডিয়ায় জানিয়েছেন। ম্যাচ রেফারির যে ভিডিও দেখার কথা বলা হয়েছে, ম্যাচ রেফারি কি ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন? তারপরও তারা বারবার বলায় ম্যাচ রেফারি ভিডিও দেখেছেন। যেখানে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে ম্যাচ রেফারি জানান।’

এ ব্যাপারে ম্যাচ রেফারি সৈয়দ মাহবুবউল্লাহর বক্তব্য জানতে তার দুটি মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দুটি ফোনই বন্ধ ছিল। ঘটনা সম্পর্কে জানতে ফিল্ড আম্পায়ার মাহমুদুল হাসান রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে বিসিবি থেকে নিষেধ করা আছে বলে জানান। যে কারণে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।’

এ ব্যাপারে আম্পায়ার্স কমিটির সদস্য সচিব আহসানুর রহমান মল্লিক রনি বলেন, ‘শুধু এই ঘটনার জন্য নিষেধ করা হয়নি। বিসিবি থেকে এমনিতেই আম্পায়ারদের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করা আছে। আপনি বিশ্বের কোথায়ও দেখবেন না যে আম্পায়াররা মিডিয়ার সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে কোনো কথা বলেছে।’

একটি সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ উঠাতে আম্পায়ার মাহমুদুল হাসান রুবেলকে মৌখিকভাবে পরবর্তী সময়ে আম্পায়ারিং করা থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত আম্পায়ার্স বিভাগ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আম্পায়ার্স কমিটির সদস্য সচিব জানান এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

আইসিসির আইনের ৪১.৫ ধারায় উল্লেখ আছে, “ফিল্ডিং দলের কোনো সদস্য (যেমন- বোলার বা অন্য কোনো ফিল্ডার) যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কথা, শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ব্যাটারের মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করেন কিংবা রান নিতে বাধা দেন, তবে সেটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ‘ডেড বল’ (Dead ball) হিসেবে গণ্য হবে।”

মিরপুর ওয়ারিয়ার্স না খেলাতে ম্যাচ রেফারি তার রিপোর্টে ‘রিফিজু টু প্লে’ উল্লেখ করে বসুন্ধরা ক্রিকেটার্সকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

ম্যাচ নিয়ে সিসিডিএমের চেয়ারম্যান মাঈনউদ্দিন চৌধুরী কামরু বলেন, ‘আমরা ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট পেয়েছি। সিদ্ধান্তের জন্য টেকনিক্যাল কমিটির কাছে পাঠাব।’

এবারের তৃতীয় বিভাগ বাছাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগে ৭০টি দল খেলছে। এখন বাকি শুধু সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্কসহ সেমিফাইনালে উঠেছে ইউনাইটেড ক্রিকেট ক্লাব, ইস্কাটন সবুজ সংঘ ও এসিই স্পোর্টস ক্লাব। ফাইনালে উঠা দুটি দল আগামী মৌসুমে তৃতীয় বিভাগ লিগে খেলবে।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম