• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

সারাদেশ

মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত নিয়েই বিদায় নিলেন বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬ ৩:১৯
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬ ৩:১৯

 

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ছবি :সংগৃহীত

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ তার জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছিল শৈশব, স্বাভাবিক জীবন আর সামাজিক নিরাপত্তা। যুদ্ধের নির্মম স্মৃতি বুকে নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের জীবন পার করা বীরাঙ্গনা টেপরী রাণী আর নেই।

গত মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে মারা যান তিনি। বুধবার (১৩ মে) সকালে নিজ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

তার মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের কাছে টেপরী রাণী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত সাক্ষী। ১৯৭১ সালে কিশোরী বয়সে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচাতে এক অসহায় বাবার কঠিন সিদ্ধান্তের শিকার হতে হয়েছিল তাকে। দীর্ঘ সাত মাস নির্যাতনের বিভীষিকা সহ্য করেও বেঁচে ছিলেন দেশের স্বাধীনতার স্বপ্নে।

স্বাধীনতার পরও তার সংগ্রাম শেষ হয়নি। সমাজের অবহেলা, অপমান আর কটূক্তি তাকে তাড়িয়েছে বছরের পর বছর। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরার পর অনাগত সন্তানকে নিয়েও নানা চাপ আসে। তবে তার বাবা মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার সাহস জুগিয়েছিলেন। পরে জন্ম হয় ছেলে সুধীর বর্মনের। সমাজের তিরস্কার নিয়েই বড় হয়েছেন তিনি। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও মায়ের আত্মত্যাগকে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন সুধীর।

দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি মেলে টেপরী রাণীর। ২০১৭ সালে তাকে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর তার জীবনের গল্প নতুন করে সামনে আসে মানুষের কাছে।

টেপরী রাণীর শেষ বিদায়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু।

স্থানীয়রা বলছেন, টেপরী রাণীর মতো নারীদের আত্মত্যাগের কারণেই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। তাই তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্যই এক বেদনাদায়ক ক্ষতি।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম