• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে ‘একসময়ের রপ্তানিকারক’ কাতার

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:১৯
আপডেট: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:১৯

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে ‘একসময়ের রপ্তানিকারক’ কাতার
 

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ ছিল কাতার। কিন্তু মাত্র আট মাসের ব্যবধানে উপসাগরীয় দেশটিকে এখন তার প্রধান প্রতিযোগী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মার্কিন এলএনজি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চেনিয়ের এনার্জির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে কাতার এনার্জি।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০৫৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৪০ লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কিনবে কাতার। গ্যাসের দাম নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি হাবের বাজারদরের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ফি যোগ করে। ২০৩০-এর দশকে এ গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

চেনিয়েরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাক ফুসকো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত সাবিন পাস ও করপাস ক্রিস্টি—উভয় স্থাপনা থেকে কাতার এনার্জিকে নির্ভরযোগ্যভাবে গ্যাস সরবরাহ করতে আমরা আগ্রহী।’

বিশ্বের মোট ৪০ কোটিরও বেশি টন এলএনজি বাণিজ্যের তুলনায় কাতারের এই ক্রয় ১ শতাংশেরও কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে একক কোনো চুক্তি হিসেবে এটি বেশ বড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হিউস্টনভিত্তিক র্যাপিডান এনার্জির গ্লোবাল গ্যাস ও এলএনজি বিভাগের পরিচালক অ্যালেক্স মুনটন বলেন, ‘একটি স্বতন্ত্র চুক্তির আকার বিবেচনায় এটি যুক্তরাষ্ট্রে দেখা সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর একটি।’

এই চুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান যুদ্ধ কীভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চিত্র বদলে দিচ্ছে এবং এর ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলো লাভবান হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রপ্তানিকারকদের আধিপত্য আরও সুসংহত হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চেনিয়ের ও যুক্তরাষ্ট্রের আরেক স্বতন্ত্র এলএনজি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভেঞ্চার গ্লোবালের শেয়ারের দাম যথাক্রমে ২৬ ও ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

উৎপাদন সক্ষমতায় বড় ধাক্কা কাতারের

ইরান যুদ্ধের আগে এলএনজি রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরই ছিল কাতারের অবস্থান। কিন্তু দেশটির গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র রাস লাফানে ইরানের বোমা হামলার পর গত আট মাসে রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ওই হামলায় উৎপাদনের দুটি লাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কাতারের মোট এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ বন্ধ হয়ে যায়।

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছেন, রাস লাফানের ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে প্রায় তিন বছর লাগবে। মার্চের ওই হামলার পর থেকে প্রতি মাসেই চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে না পারার কারণ দেখিয়ে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা দিয়ে আসছে উপসাগরীয় দেশটি। অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তির শর্ত পূরণ করা অসম্ভব হলে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে আল-কাবি বলেন, ‘এটি আগামী কয়েক বছরের জন্য আমাদের উৎপাদন সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি করতে না পারায় বর্তমানে কাতার খুব সামান্য পরিমাণ এলএনজি রপ্তানি করছে।

আল-কাবির ভাষ্য, ‘খুব সীমিতসংখ্যক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করছে। তবে এর পরিমাণ এতই কম যে শতাংশের হিসাবেও তা উল্লেখযোগ্য নয়।

রাস লাফানের উৎপাদনকেন্দ্র মেরামত শেষ হলেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরান ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত রাখায় প্রণালিটিতে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় ফিরবে কি না, তা নিয়ে কাতার উদ্বিগ্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অ্যালেক্স মুনটনের মতে, চেনিয়েরের সঙ্গে কয়েক দশকের জন্য করা চুক্তি থেকে বোঝা যায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই কাতার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে।

এলএনজি পরিবহনের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ খুঁজে বের করাও কঠিন। কারণ, এলএনজি মূলত জাহাজে করেই পরিবহন করতে হয়।

মুনটন বলেন, ‘গ্যাস তরলীকৃত করা হয়, যাতে তা জাহাজে পরিবহন করা যায়। এর জন্য সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতেই হবে। বাজারে এলএনজি পৌঁছানোর অন্য কোনো পথ নেই। তারা কার্যত আটকে পড়েছে।’

উৎপাদনকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে না পারার কারণে কাতার এনার্জি চেনিয়েরের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি বাণিজ্য সম্প্রসারণ করছে বলে মনে করেন মুনটন।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে চীনের কয়েকটি ব্যাংক থেকে ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ পেয়েছে কাতার এনার্জি। ইউবিএসের বিশ্লেষক মানব গুপ্ত বৃহস্পতিবার গ্রাহকদের কাছে পাঠানো এক নোটে বলেন, এই ঋণ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে আরও বেশি মার্কিন এলএনজি কেনার সুযোগ করে দিতে পারে। সূত্র: সিএনবিসি

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম