• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

সারাদেশ

সবার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন তোরসা জহুর

প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৪
আপডেট: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৪

 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
একটি অনলাইন ক্লাস। পর্দায় ভেসে উঠছে শিক্ষকের লেকচার, পাশে দেওয়া হয়েছে একটি পিডিএফ, আর ভিডিওতে চলছে গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য এটি স্বাভাবিক একটি শিক্ষার অভিজ্ঞতা। কিন্তু একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী যদি স্ক্রিন রিডারে সেই পিডিএফটি পড়তে না পারেন? শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী যদি ভিডিওটির ক্যাপশন না পান? কিংবা ডিসলেক্সিয়া বা ডিসগ্রাফিয়ায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীর কাছে কনটেন্টের জটিল বিন্যাসই যদি হয়ে ওঠে নতুন বাধা?

প্রযুক্তির যখন শিক্ষার দরজা আরও প্রশস্ত করার কথা, তখন সেই দরজা যেন কারও জন্য বন্ধ না হয়ে যায়– এ লক্ষ্যে বিশ্বমঞ্চে কাজ করছেন বাংলাদেশের তরুণ গবেষক তোরসা জহুর। তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র ‘ডিজিটাল অ্যাকসেসিবিলিটি’ ও ‘লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি’। অর্থাৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় শারীরিক, মানসিক, ভাষাগত কিংবা শিক্ষণগত প্রতিবন্ধকতা থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

গত ৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটায় দ্য অলিভ অ্যান হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তোরসা জহুর পেয়েছেন সম্মানজনক ‘২০২৬ ইয়াং প্রফেশনাল অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার। গ্র্যান্ড ফোর্কস অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামোয় দুই বছরের বেশি সময়ের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘গ্রেটার গ্র্যান্ড ফোর্কস ইয়াং প্রফেশনালস’ তাকে এই সম্মাননা দেয়।

এই অর্জনের পেছনে রয়েছে তার বিশেষায়িত জ্ঞান ও মানুষের জন্য কাজ করার দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটায় ‘টিচিং অ্যান্ড লিডারশিপ’ বিষয়ে পিএইচডি করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং ইনস্ট্রাক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ডিজিটাল অ্যাকসেসিবিলিটি আসলে কী?
তোরসার ভাষায়, এটি এমন এক শিক্ষাবান্ধব ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিবন্ধকতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। অনলাইনে শুধু লেকচার বা পিডিএফ প্রকাশ করলে দায়িত্ব শেষ হয় না, সেগুলো সব শিক্ষার্থীর ব্যবহারের উপযোগী কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটায় অ্যাকসেসিবিলিটি রিভিউয়ার হিসেবে তোরসা শিক্ষকদের তৈরি অনলাইন কোর্স পরীক্ষা করেন। কোথায় হেডিংয়ের কাঠামো ভুল, কোনো টেবিল স্ক্রিন রিডারে পড়া যাচ্ছে কি না, ছবির সঙ্গে ‘অল্টারনেটিভ টেক্সট’ আছে কি না– এসব তিনি পদ্ধতিগতভাবে পরীক্ষা করে সেগুলোকে প্রবেশগম্য করে তোলেন। এ কাজে তিনি UDL, ADA এবং WCAG-এর মতো বৈশ্বিক গাইডলাইন অনুসরণ করেন।

তার মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে শিক্ষককেও প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম হতে হবে। বাংলাদেশে অর্জিত স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজির জ্ঞানকে আধুনিক শিক্ষাপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে একটি টেকসই পেডাগজিক্যাল মডেল তৈরির লক্ষ্যে এগোচ্ছেন তিনি।

ডিজিটাল অ্যাকসেসিবিলিটির সুফল শুধু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সুসংগঠিত কনটেন্ট সবার শেখার অভিজ্ঞতাই উন্নত করে। উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির নির্দেশিকা ও অ্যাকসেসিবিলিটি অডিটের মাধ্যমে ‘সবার জন্য ডিজাইন’ নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে আনা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে লার্নিং ডিজঅ্যাবিলিটি নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) নির্ভর প্ল্যাটফর্ম তৈরির স্বপ্ন রয়েছে তার। নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে তার এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।

তোরসা জহুরের গল্প কেবল বিদেশে পুরস্কার পাওয়ার গল্প নয়; এটি এমন এক শিক্ষাব্যবস্থার স্বপ্নের গল্প, যেখানে প্রযুক্তি কাউকে বাদ দেবে না। প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, তার প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষটির জন্যও প্রযুক্তির দরজা খোলা থাকে। বাংলাদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে দাঁড়িয়ে তোরসা সেই দরজাটি আরও প্রশস্ত করার কাজে ব্যস্ত।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম