• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

সম্পাদকীয়

৭ই নভেম্বর ১৯৭৫-এ শহীদ জিয়াউর রহমান এবং একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ

প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ৮:৪৬
আপডেট: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ৮:৪৬

 

দেশকে ভালবাসতে হলে বিবেক দিয়ে দেশ ও দেশের স্বার্থকে দেখতে হবে আবেগ দিয়ে নয়। আবেগ দিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা হয় দেশকে ভালবাসা যায় না। কারন দেশকে ভালবাসতে হলে সবার আগে দেশের স্বার্থকে বুঝতে হবে জনগনের স্বার্থকে বুঝতে হবে।

বিশিষ্ট দেশপ্রিমিক সাংবাদিক নুরুল কবিরের একটি উক্তি,

অবাক করা বিষয়, শেখ মুজিবকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য ইনু,আর তার নেতা কর্নেল তাহের অস্ত্র নিয়েই বিপ্লব করেছিল,শেখ সাহেবের পতনের পর মোশতাকের মন্ত্রী সভায় তারাই গিয়েছিল। আজ তারাই আবার হাসিনার মন্ত্রী সভার মন্ত্রী !! ইনুরা যখন আদর্শের কথা বলে তখন তা ভন্ডামী হয়ে যায়। জনতার ভালোবাসা জিয়াকে নেতা বানিয়েছে,যে ভালোবাসা কর্নেল তাহেরের প্রতি ছিল না,তাই কর্নেল তাহের আর ইনুরা জিয়ার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় যেতে চেয়ে ছিল,কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্যেই লিখা ছিল জিয়াউর রহমানের ক্ষন-জন্মা সু-সময়”
সাংবাদিক নুরুল কবির।

আজ থেকে ৫১ বৎসর পূর্বে ১৯৭৫ সালের এই দিনে একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং সর্বোপরি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। নিশ্চিত হয় মানুষের মৌলিক অধিকার বাকস্বাধীনতা- গণতন্ত্র। এদেশের মানুষ তাই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সেদিনের সেই মহান বিপ্লবের নায়ক সিপাহী জনতাকে। উল্লেখ্য, সাতই নভেম্বরের বিপ্লব আগাম কোন ঘোষণা দিয়ে আসেনি, কিংবা কোন রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির ডাকে সংঘটিত হয়নি। এটি হয়েছিল দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের জন্য তাৎক্ষনিক একটি বিপ্লব, যা ছিল সিপাহী ও জনতার যৌথ বিপ্লব এবং এটি ছিল তখনকার পরিপ্রেক্ষিতে অপরিহার্য।

 

 

১৯৭৫ সালের ৩ থেকে ৬ নভেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অনিশ্চিত অবস্থা বিরাজ করছিল। হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একটি উচ্চাভিলাষী দল সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে বন্দি করে এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটালে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনা সাধারণ জনগণ ও সিপাহীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর সর্বমহলে, বিশেষত সিপাহীদের কাছে ছিলেন খুবই জনপ্রিয়। ফলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ ও জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর মধ্যরাতে ঘটে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ এক বিপ্লব, যা ইতিহাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে স্থান লাভ করেছে। দেশবাসী সেদিন জিয়ার হাতেই তুলে দিয়েছিল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব।

 

 

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তদানীন্তন দৈনিক বাংলার রিপোর্টে বিপ্লব সম্পর্কে বলা হয়, ‘সিপাহী ও জনতার মিলিত বিপ্লবে চারদিনের দুঃস্বপ্ন শেষ হয়েছে। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনীর সিপাহী-জওয়ানরা বিপ্লবী অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন। ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ছিন্ন করে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছেন বিপ্লবী সিপাহীরা। ৭ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে রেডিওতে ভেসে আসে, ‘আমি মেজর জেনারেল জিয়া বলছি।’ জেনারেল জিয়া জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যথাস্থানে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ওইদিন রাজধানী ঢাকা ছিল মিছিলের নগরী। পথে পথে সিপাহী-জনতা আলিঙ্গন করেছে একে অপরকে। নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ধ্বনিতে ফেটে পড়েন তারা। সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবে ভণ্ডুল হয়ে যায় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র। আনন্দে উদ্বেলিত হাজার হাজার মানুষ নেমে আসেন রাজপথে। সাধারণ মানুষ ট্যাঙ্কের নলে পরিয়ে দেন ফুলের মালা। এই আনন্দের ঢেউ রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের সব শহর-নগর-গ্রামেও পৌঁছে যায়।’

৭ নভেম্বর সম্পর্কে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার ‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইতে লেখেন,খ ‘১৯৭৫ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টসহ সারা শহরে ছড়ানো হলো হাজার হাজার প্রচারপত্র। একটি ব্যাপারে ডান ও বাম উভয় রাজনৈতিক দলই একমত ছিল, আর তা হচ্ছে খালেদ মোশাররফ একজন বিশ্বাসঘাতক, ভারতের দালাল এবং সে ঘৃণিত বাকশাল ও মুজিববাদ ফিরিয়ে আনতে চাইছে।’

 

 

৭ নভেম্বরের ভোরের দিকে জওয়ানরা ব্যারাক থেকে বেরিয়ে পড়ল। সারা ঢাকা শহরে এই ‘সিপাহী বিপ্লব’ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। রাত ১টার মধ্যেই সিপাহীরা পুরো ক্যান্টনমেন্ট দখল করে নিল। একদল জওয়ান গেল জেনারেল জিয়ার বাসভবনে। চারদিন বন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেন জেনারেল জিয়া। নৈশ পোশাক পরা অবস্থাতেই জিয়াকে উল্লসিত জওয়ানরা কাঁধে করে নিয়ে গেল ২ ফিল্ড আর্টিলারির হেডকোয়ার্টারে। ঘটনার আকস্মিকতায় তখন বিহ্বল হয়ে পড়েন জিয়া। নাম না জানা অনেক জওয়ানের সঙ্গে আলিঙ্গন, করমর্দন করেন তিনি।

 

গ্রন্থটিতে আরও বলা হয়েছে, ‘রেডিওতে ক্রমাগত সিপাহী জনতার বিপ্লবের ঘোষণা এবং জেনারেল জিয়ার ক্ষমতা দখলের খবর শুনে হাজার হাজার লোক স্রোতের মতো রাস্তায় নেমে এলো। তিন দিন ধরে তারা বিশ্বাস করছিল যে, ভারত খালেদ মোশাররফের মাধ্যমে তাদের কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতাকে বিপন্ন করছে। এখন সেই দুঃস্বপ্ন কেটে গেছে। সর্বত্র জওয়ান এবং সাধারণ মানুষ খুশিতে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করল, রাস্তায় নামল। সারারাত তারা স্লোগান দিল, ‘আল্লাহু আকবর, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, সিপাহী বিপ্লব জিন্দাবাদ।’ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের মতো এদেশের মানুষ আবার জেগে উঠেছে।

৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা অভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য শাসক সমাজের ওপর বৈদেশিক মুরুব্বিয়ানার বাধ্যতা প্রত্যাখ্যান করে গণচেতনায় জাতিরাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার। দেশবাসীর মনে সার্বভৌমত্বের গর্ববোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা। পঁচিশ বছর মেয়াদি শান্তি ও মৈত্রী চুক্তির অসম সম্পর্কের মায়াজাল এদেশের অভিজন সমাজে যে ভারতমুখাপেক্ষিতা ও হীনম্মন্যতার প্রসার ঘটিয়ে চলেছিল, তার বজ্রআঁটুনি ছিন্ন করেছিল দৃপ্ত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান ও আত্মস্থশক্তির বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উৎখাত হয়েছিল দিল্লির প্রাসাদকামী পরগাছার জঞ্জাল।

এভাবে জাতিরাষ্ট্রের আত্মমর্যাদাবোধ ঐ দিন থেকে যে স্বকীয়তা, স্বনির্ভরতা ও আত্মোন্নতির উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল, আজও তা জাতিকে প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। যদিও ভূরাজনৈতিক চক্রান্তে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা দিল্লির পদলেহি একটা পরিবারতন্ত্রের সংঘশক্তির করায়ত্ত, জাতিরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও সংবিধানকে সাবোটাজ করে ঐ সংঘশক্তির পঞ্চম বাহিনী এদেশকে বিশ্বের চোখে স্বশাসনের অযোগ্য প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে, প্রকাপ্রন্তরে বাংলাদেশের ভারতভুক্তির একটা নীলনকশা অনুসরণ করে চলেছে, নভেম্বর বিপ্লবে জাগ্রত দেশবাসী পদে পদে নতজানু ভারতমুখাপেক্ষী সরকারি উদ্যোগগুলোকে জনমতের প্রাচীর দিয়ে অবরুদ্ধ করেছে। জনস্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রের বিকলাঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর খর্বশক্তি দিয়েও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। চলমান বিশ্বব্যবস্থার সংঘাতসঙ্কুল আবর্তে, আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের হুমকিতে কিংবা বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার গোলকধাঁধায় পথ হারায়নি। রাষ্ট্রঘাতী চক্রান্তের মোকাবেলায় রাজপথে নেমে এসেছে, প্রতিবাদে প্রতিরোধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রঘাতী চক্রের কবল থেকে অচিরে আবার রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নেবে জাগ্রত জনতা, এ কথা সুনিশ্চিত।

 

কর্নেল আবু তাহের ও ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ এর নাম অনেক শুনলেও তাদের ছবি খুব কমই চোখে পড়েছে তাই তাদের ছবি গুলো যুক্ত করলাম।

 

 

শহীদ জিয়া যিনি ছিলেন ৭ই নভেম্বরের নায়ক

তাই শহীদ জিয়া বাংলার মানুষের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল অবদানের জন্য শহীদ জিয়াকে কৃতজ্ঞতা জানাই সকল দেশপ্রমিক বাংলাদেশী।

 

 

শহীদ জিয়া অত্যাধিক মেধাবী ছিলেন । যার জন্য জেনারেল জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনামলে প্রায় ২১টি অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২১টি অভ্যুত্থান থেকে বেঁচে গেলেও ২২তম অভ্যুত্থানে তিনি মৃত্যুবরন করেন। এর অধিকাংশই ছিল ১৯৭১ সালের সেই সকল মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের সমন্বয়ে গঠিত, যারা জিয়ার ইসলামিক ভাবাপন্ন দলের সাথে সম্পর্ক সহ্য করতে পারেননি। ইসলামতো বাংলাদেশের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাই শহীদ জিয়া সবসময় ইসলামের পাশে থেকেছেন। তিনি এসব আন্দোলন দৃঢ়ভাবে দমন করেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়উর রহমানকে হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে ৩০শে এপ্রিল, ১৯৮১-তে এই ক্যু সংঘঠিত হয় দেশের দক্ষিণের বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। রাষ্ট্রপতি জিয়ার প্রধান সেনাপতি এরশাদের ষড়যন্ত্রে একদল আর্মি অফিসার দ্বারা সংঘটিত এই ক্যুয়ের দায় চাপানো হয় জেনারেল মঞ্জুরের উপর। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ঢাকা থেকে ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুল হাসানকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে পাঠিয়ে মঞ্জুরকে ক্যান্টনেমেন্ট বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় বলে লরেন্স লিফশ্যুলজ দাবী করেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বাংলাদেশের সকল সত্য ইতিহাস উদঘাটন সম্ভব হবে যদি মিডিয়া গুলো রাজনীতি বাদ দিয়ে জনগনের পক্ষে দাড়ায়। কিন্তু সেটা কি আদৌ সম্ভব? মিডিয়া গুলো জনগনের পাশে দাঁড়ালে রাজনৈতিক দলগুলোও জনগনের পার্শ্বে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। তা না হলে জনগনের দুর্ভোগ কোনদিনই শেষ হবে না বাংলাদেশে।

মুমুর্ষ দেশ মাতা খালেদা জিয়ার জন্য আমাদের করণীয় কি ?

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে প্রতিবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত নেত্রী, যেনেত্রীর পরাজয়ের কোন রেকর্ড নাই, ২০ দলীয় জোট নেত্রী, বিএনপি সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুমুর্ষ অবস্থায় আছেন ।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কি আমাদের সকল মানবিক অনুভূতিকে রুদ্ধ করে দিয়েছে,,???
উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগও কি রুদ্ধ ? জাতির ললাটে কি আরেকটি কলঙ্কজনক ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছি,,?? আমরা কি নিষ্ঠুরতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে রেখে যাচ্ছি,,,??

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে বার বার আবেদন নিবেদন ও অনুরোধ করে আসছেেন উনার পরিবারের সদস্য।কিন্তু সরকার ও সরকারের আইন মন্ত্রণালয় কোন কর্ণপাত না করে বলতেছে খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হলে আবার কারাবরণ করে আবেদন করতে হবে, এ কেমন অমানবিক কথা।
মানুষের জান ও মাল নিরাপত্তা রক্ষার বিধান রেখেই সংবিধান ও আইন।

আজকে প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বক্তব্য কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তোলে ধরা হলো ……………
খালেদাকে বাসায় রেখেছি, এটা কি বেশি নয়: খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বাসায় থাকতে দিয়েছি, এটাই কি বেশি নয়? আপনাকে যদি কেউ হত্যার চেষ্টা করতো, আপনি তাকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন?’
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনার পরিবারকে যদি কেউ হত্যা করতো, আর সেই হত্যাকারীকে যদি কেউ বিচার না করে পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিতো, তার জন্য আপনি কি করতেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রেনেড হামলার পর খালেদা জিয়া বললেন, আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম।

পাঠক আপনাদের কাছে বিচারের ভার প্রধানমন্ত্রীর বক্ত্যবে কি প্রমাণিত হলো,কিসের বিচার, কিসের আইন, কিসের রায়,প্রধান মন্ত্রীর প্রতি হিংসার শিকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ মুমুর্ষ অবস্থায় আছেন।

 

সরকার দলের অনেক মন্ত্রী এমপি নিজেদের চিকিৎসার জন্য বহুবার বিদেশে গিয়ে প্রমান করেছেন এদেশে সুচিকিৎসা নেই। জীবন মরন সন্ধিক্ষনে বহুগুণে অসুস্থ খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তারা এটি অনুভব করেন না কেন তাহলে? মানুষ মানুষের জন্য এ কথা চিন্তা করে একজন তিনবারের প্রধান মন্ত্রী একজন সেনাবাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশের সাবেক একজন প্রেসিডেন্টের সহধর্মিনী একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের প্রধান, মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ফরমায়েশি রায়দিয়ে জেলে দিয়ে ৭৪ বছর বয়সের মহিলা আজ গুরুতর অসুস্থ , রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত ফ্যাসিস্ট বিনা ভোটের সরকার প্রধান শেখ হাসিনা দাম্ভিকতার সূরে কথা বলছেন। একজন মুমুর্ষ মানুষের জীবন বাচানোর প্রশ্নে মানবিকতা না দেখাতে পারলে এর চেয়ে ঘৃন্য আর কি হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কি আমাদের সকল মানবিক অনুভূতিকে রুদ্ধ করে দিয়েছে,,?

সংবিধানের দোহাই দিয়ে আওয়ামিলীগের মন্ত্রী এমপি সহ নানা মুনি নানা মত প্রকাশ করলেও আসল কথা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী চাইলেই শুধু বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব এছাড়া সম্ভব না।
ডাক্তারদের ব্যর্থতা বার বার বলা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার একগুঁয়েমিতে দেশনেত্রীর অবস্থা সংকটাপন্ন। দেশনেত্রীর কোনো অঘটন ঘটলে তার দায় হাসিনার উপর বর্তাবে।

প্রতিহিংসা জিঘাংসা যাদের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য তাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী বসবাসের সুযোগ নাই। বরং পশুত্বের বৈশিষ্ট্য বেশি বলেই তাদেরকে পশুর সাথে তুলনা করা হয়।

হয়তো বিদেশ যাবার অনুমতি দিবে কিন্তু অন্তিম মূহুর্তে জনগণকে বুঝানোর জন্য সরকার কত উদার সেটা। আর এটাও হয়তো দেখব উনি বিদেশেই যাবেন কিন্তু দেশে যেন আনতে না পারে তার সব ব্যবস্থা করে রাখবে সরকার। দেশে আনলেতো খালেদা জিয়ার শুধু দলীয় কর্মী না সাধারণ মানুষ ও সহানুভূতি পাবে এখানেই ভয় সরকারের।

যে আইন দেখিয়ে মানুষের জীবন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে,সে আইন কি জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবে ? আইন তো জীবনের জন্য, আইন যদি জীবন নিয়ে নেয় সেই বিধি আইন হয় কিভাবে ? জীবনের জন্য পৃথিবীর সমস্ত আইন প্রয়োগ যোগ্য নয়,অচল। নিজেদের জন্য বিদেশে চিকিৎসা ফরজ আর অন্যের জন্য ঐচ্ছিক। এই ধরনের মানষিকতা হত্যা তুল্য অপরাধ।ঢাকার সুপ্রীম কোর্টে বিচার সমাধান যোগ্য না হলে,বিদেশী কোর্টে বিচার রেফার করা যায় না ? ঐ কোর্ট গুলো নিশ্চয়ই জীবনের পক্ষে রায় দিবে।

মানবতা কলমের লিখনিতে আর ফেজবুকের পাতায় ও বইয়ের পাতায় সীমাবধ্য বাস্তবে মানবতা শব্দটি বাংলাদেশে মৃত কিছু মানুষ এমন করে কথা বলে মনে হয় না তাদের কাছে মরণের ভয় নাই ।এরা ভুলে গেছে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।ক্ষমতা হচ্ছে তাদের জন্য আল্লাহর প্রদত্ত পরীক্ষা মাএ।মহান আল্লাহ এদের কে বুঝার তোফিক দানকরুক।

ধীক্কার জানাই এই সমাজ ব্যবস্থা কে । ঘৃণা করি এই সমস্ত ফ্যাসিস্ট গণতন্ত্র বিহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা কে । থু থু মারি বিচার ব্যবস্থাকে। বিচার দুনিয়াতেই না হলেও আল্লাহর আদালতে কেউ পার পাবে না।আল্লাহই উত্তম ফায়সালা কারি।

 

যারা এদেশে একাধিক গনহত্যা চালিয়েছে, তাদের পক্ষে খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলা বেশি ভয়ানকও নয়, ঘৃন্যতমও নয়।আল্লাহ চাইলে পূর্বের অপরাধগুলোর মতো খালেদা জিয়ার প্রতি অন্যায়েরর জন্যও একদিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
হিংসা, বিদ্বেষ, খুন, গুম, রাষ্ট্রীয়সন্ত্রাস যখন গোটা রাষ্ট্র কে গ্রাস করে আছে। তখন এই রকমই হয়ে থাকে।

আমরা দেখেছি সরকার ওবায়দুল কাদেরের জন্য বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে বিমানে করে বিদেশে পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ যান । প্রধানমন্ত্রী নিজে ও বিদেশে চিকিৎসা করালেন। তখন দেশে কি সুচিকিৎসা ছিল না? ওনারা যেতে পারেন আর বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এত বাধা? সবার কাছে আহবান জানাবো দলমত নির্বিশেষে অপরাপর সকল রাজনৈতিক সামাজিক ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দেরা এমন ভাবে চাপ তৈরি করুন যেন সরকার বাধ্য হয়ে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

সরকার যেটা করছে তা পুরোপুরি অমানবিক জঘন্য কাজ। রাজনীতি, ক্ষমতা, বিদ্ধেষে যত ধরনের খারাপ কাজ আছে, তার সব মিলে সরকার খালেদা জিয়ার সাথে অমানবিক মনুষ্যত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে।
এই দিন,দিন নয়,আরো দিন আছে।সময়ই সব বলে দিবে…আজ যা শিখছে,ভবিষ্যতে বিএনপিও কাজে লাগাবে..।পরিশেষে বলতে বাধ্য হলাম বেগম খালেদা জিয়া সারা জীবন যে দলের জন্য কাজ করলেন আজ ওনার দল ওনার পাশে নেই কেন ? এ নিয়ে বিএনপির কোন কর্মসূচির দেখলাম না আফসোস হয়।রাজপথে দেখি কমিটি বাতিলের দাবিতে মিছিল মিটিং নেত্রীর জন্য দোয়া মাহফিল ছাড়া কিছুই পরিলক্ষিত হলো না।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক বেশি অসুস্থ, উনার জীবন সংকটাপন্ন।
আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা তাঁকে যেন সুস্থতা দান করেন। এটা শুধু বিএনপির জন্য নয়, তাঁর পরিবারের জন্য নয়, এই বাংলাদেশের ১৬ কোটি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য তাঁকে আমাদের বড় প্রয়োজন। তিনি হচ্ছেন সেই নেত্রী, যিনি গণতন্ত্রের জন্য হ্যামিলনের বংশীবাদকের মতো সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন।প্রতিহিংসা পরায়ন রাজনীতির শিকার বেগম খালেদা জিয়া আল্লাহর ওনার প্রতি সদয় হন এটাই পরম করুনাময় আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার কাছে কায়মনে বাক্যে প্রার্থনা করি ।

লেখকঃ আব্দুল আজিজ
সম্পাদক : শীর্ষ খবর ডটকম
সহ সভাপতি জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কেন্দীয় কমিটি
কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম