• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

জাতীয়

৮ মাসে ৪ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপির পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন কেউ অপরিহার্য নয়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৪০
আপডেট: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৪০

 

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
সরকারের বয়স মাত্র সাড়ে আট মাস। এরই মধ্যে দুজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী এবং একজন সংসদ-সদস্যকে পদ হারাতে হলো। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের সরে যেতে হয়। এদের কারও বিরুদ্ধে দলীয় কোন্দল, কারও বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করা এবং কারও বিরুদ্ধে জনস্বার্থবিরোধী কাজে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ নজরে আসার পর নিশ্চিত হয়েই অ্যাকশনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার এই বিষয়টি মন্ত্রিসভার সদস্য ও এমপি থেকে শুরু করে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে একটি কঠোর বর্তা। এতে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মন্ত্রিসভার যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারাও এখন সতর্ক। অনেকের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্কও বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, দল এবং সরকারে কেউ অপরিহার্য নয়। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি তার অবস্থানে দৃঢ় থাকেন তাহলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হয়। না হলে নেতাকর্মীরা লাগামহীন হয়ে পড়ে।

এ ইস্যুতে কথা বলেছেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, কেউ যে সরকারে অপরিহার্য নয়, তা পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। তিনি বলেন, কেউ যদি মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করেন, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর যতই কাছের হোক, প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা করবেন না। তিনি ইতোমধ্যে তা প্রমাণ করেছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এমপিরা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বিষয়টি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এমপিদের মাথায় রাখতে হবে। জানতে চাইলে সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন-দেশ পরিচালনায় যোগ্য লোক দরকার। যোগ্যতার মাপকাঠি হলো-সততা, নিষ্ঠা এবং একাগ্রতা। অতীতে এসব বিষয়ে ছোট ছোট উদাহরণ রয়েছে। একজন মানুষ সৎ দক্ষ এবং নিষ্ঠাবান হলে তার টিম কাজে সহায়তা করে। তিনি বলেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার আরও কিছু সদস্য রয়েছেন, যাদের কথা ও কাজ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। আশা করছি সরকার সে বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে মনোযোগ দেবে।

সরকারের চার মাস বয়সেই পদত্যাগ করতে হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে। কারণ হিসাবে দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করলেও দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে জানা গেছে। দলের ভেতরে একাধিক বিষয় নিয়ে একমত হতে না পারায় তিনি সরে দাঁড়ান।

জহির উদ্দিন স্বপনকে সরিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আন্দালিভ রহমান পার্থকে। তবে জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পদত্যাগপত্রে জহির উদ্দিন স্বপন কোনো কারণ উল্লেখ না করলেও তার বিরুদ্ধে ঢাকা ক্লাবে বসে জেলখানায় আটক এক সাংবাদিকের স্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের খবর চাউর হয়ে গিয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের কিছু বিষয়েও অনিয়মের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

সবশেষ গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ইশরাক হোসেন। তিনি পদত্যাগের পর গণমাধ্যমকে বলেন, দল চায়নি তাই পদত্যাগ করলাম। আমি সেখানে গিয়েছি মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান দেখতে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বেআইনি কাজে সেখানে যাইনি। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী ওই অভিযানে তাকে অস্ত্র হাতে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। তার সহযোগীদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি ও অসন্তোষ নেমে আসে। প্রশ্ন ওঠে, অস্ত্রটি বৈধ হলেও একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের যদি এভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হয়, তাহলে পুলিশের কাজ কী? পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইশরাক পদত্যাগ করেন।

অপর দিকে মীরপুরের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি গত ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগ করেন। মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততা থাকায় তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মিষ্টি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেন।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম