বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
বুধবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল রাজমণি ঈশাখাঁয় দেশের রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতি বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মাইজভান্ডারী বলেন, বর্তমান বাংলাদেশসহ বিশ্বে দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান উর্ধ্বগতির কারণে দেশের অধিকাংশ মানুষ এক কঠিন সময় পার করছে। বিভিন্ন কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির ফলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে জনজীবনে ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক দল বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় না এনে, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করছে। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। এই প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আমাদের উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, লুটেরা, দুর্নীতিবাজ ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি অতীতের ন্যায় মাঠে থাকবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক নিয়মে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা সমুন্নত রাখতে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। ক্ষমতার পট পরিবর্তন করতে হলে নির্বাচনের বিকল্প আছে বলে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনে করে না।
সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন, গণতান্ত্রিক পথ রুদ্ধ হলে অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঘটে। অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হলে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। তাই আলোচনার ভিত্তিতে যেকোনো সমস্যার সমাধান হওয়া বাঞ্ছনীয়।
বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে সৎ, নির্ভীক, দেশপ্রেমিক মেধাবীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিতে হবে। তাদের নিয়ে সম্প্রীতিময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতে সত্য-ন্যায়ের আদর্শে সুফি দর্শনের আলোকে মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির লক্ষ্য।
দেশের টেকসই উন্নয়ন ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে ষড়যন্ত্রকারী, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজদের কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। বিএসপির চেয়ারম্যান টালমাটাল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে ১৯৭১ এর ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ইব্রাহিম বীর প্রতীক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিজবাহুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান পীরে তরিকত মাওলানা বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী (মা.জি.আ.), গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) চেযারম্যান আলহাজ ডা. এ কে এম ফজলুল হক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএনডিপি) চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান বঙ্গদীপ এম এ ভাসানী (মোসতাক ভাসানী), বাংলাদেশ মানবতাবাদী পার্টির চেয়ারম্যান মুফতি আবদুল মাজিদ, বাংলাদেশ গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতা উল্লাহ খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ তাঁতি লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর ইমাম, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরিষদের নির্বাহী মহাসচিব আলহাজ মাওলানা আ ন ম মাসউদ হোসাইন আল কাদেরী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জনতা দল (বিএনজেপি) চেয়ারম্যান মো. ফয়েজ চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার এনামুল নাছির, বাংলাদেশ জনদল (বিজেডি) চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের (বিজিএমএ) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. আশরাফ আলী হাওলাদার, জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির ফাউন্ডার অ্যান্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. নজরুল ইসলাম তামজিল প্রমুখ।













