আদালত প্রতিবেদক
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২০২৫ সালের নির্বাচনে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলায় বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (২০ মার্চ) এ বিষয়ে আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো.খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এর আগে গত সোমবার (১৮ মার্চ) ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোরশেদ আলমের আদালতে কাজলের জামিন চেয়ে আবেদন করেন কাজলের আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। এরপর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবী।
গত ৮ মার্চ রাতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ সালের নির্বাচনে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় যুথী ও বিএনপির প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়। প্রধান আসামি করা হয় অ্যাডভোকেট যুথিকে। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ মামলাটি করেন।
গত ৯ মার্চ সন্ধ্যায় পল্টনের তোপখানা রোডে নিজ চেম্বার থেকে ব্যারিস্টার কাজলকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করলে হত্যাচেষ্টা মামলাটিতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
গত ১০ মার্চ তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ। অন্যদিকে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ১৪ মার্চ কাজলকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা কারাগারে আটক রাখার আবেদন করলে বিচারক কাজলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান চৌধুরী সাইফ তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন ওরফে মাসুদ (৫৫), অ্যাডভোকেট শাকিলা রৌশন, অ্যাডভোকেট কাজী বশির আহম্মেদ, ব্যারিস্টার উসমান, অ্যাডভোকেট আরিফ, অ্যাডভোকেট সুমন, অ্যাডভোকেট তুষার, রবিউল, ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমী ফাতেমা (কবিতা), সাইদুর রহমান জুয়েল (৪০), অলিউর, যুবলীগ নেতা জয়দেব নন্দী, মাইন উদ্দিন রানা, মশিউর রহমান সুমন, কামাল হোসেন, আসলাম রাইয়ান, অ্যাডভোকেট তরিকুল ও অ্যাডভোকেট সোহাগ। এ ছাড়া মামলায় ৩০/৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের বিএনপির প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ৬ আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।













