জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরীর ১৫টি সংসদীয় আসনে মোট ১৯৪টি মনোনয়পত্র জমা পড়েছে। মনোনয়ন জমাদানকারীদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও রয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এদিন সকাল থেকেই সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের ভিড় দেখা যায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার পরও কেউ কেউ মনোনয়ন জমা দিতে এলে তা গ্রহণ করা হয়নি। এ নিয়ে শেষ বিকেলে কার্যালয় চত্বরে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী জানান, তার আওতাধীন ১৩টি আসনে মোট ১৭৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-৪ আসনে ৮টি, ঢাকা-৫ এ ১৬টি, ঢাকা-৬ এ ৭টি, ঢাকা-৭ এ ১৫টি, ঢাকা-৮ এ ১২টি, ঢাকা-৯ এ ১৪টি, ঢাকা-১০ এ ১৩টি, ঢাকা-১১ এ ১১টি, ঢাকা-১২ এ ১৮টি, ঢাকা-১৪ এ ১৩টি, ঢাকা-১৬ এ ১৩টি, ঢাকা-১৭ এ ১৭টি এবং ঢাকা-১৮ আসনে ১৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এসব আসনে মোট ২৬৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনূস আলী জানান, এ দুই আসনে মোট ২০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৩ আসনে ১১টি এবং ঢাকা-১৫ আসনে ৯টি।
ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে তাঁর প্রতিনিধিরা সেগুনবাগিচায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। অন্যদিকে, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয় আগারওগাঁওয়ের ইটিআই ভবনে আঞ্চলিক নির্বাচনি কর্মকর্তার কার্যালয়ে।
এদিন বিএনপির আরও কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা-৮ আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ, ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান, ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশীদ এবং ঢাকা-১৮ আসনে এস এম জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া ঢাকা-৭ আসনে যুবদল নেতা ইসহাক সরকার এবং ঢাকা-১৪ আসনে এস এ সিদ্দিক (সাজু) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরাও এদিন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা-১৮ আসনে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম মনোনয়ন জমা দেন। মনোনয়ন জমা শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, “ঢাকা-৮ আসনটি একটি ‘মৃত্যু উপত্যকা’। এই মৃত্যু উপত্যকায় আমরা আর কোনো লাশ চাই না।”
এ ছাড়া জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদেরও শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেখা গেছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি ঢাকা-১২ আসন ছেড়ে দিয়েছে। এ আসনে দলটির প্রার্থী সাইফুল হক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে অনেক প্রার্থী দলবল নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন। কোথাও কোথাও সমর্থকদের স্লোগান দিতেও দেখা যায়। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, “রাজনৈতিক দল অনেক কিছুই করে, এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কেউ অভিযোগ করলে তা নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে পাঠানো হবে।”













