আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে পৌঁছেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৮২৬ জন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটকও আছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে নিহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে চিতওয়ান জেলায়- ১৩২টি। এ ছাড়া নাওয়ালপরাসি ইস্ট থেকে ৮২টি, ধাদিং থেকে ৩৩টি, গোরখা থেকে ৩০টি, নুওয়াকোট থেকে ২৮টি, তানাহুন থেকে ২২টি, রাসুয়া থেকে ১৭টি এবং নাওয়ালপরাসি ওয়েস্ট থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির তথ্যমতে, নিখোঁজ ৮২৬ জনের তালিকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। নিখোঁজ নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৪ জন, নেপাল পুলিশের ২৮ জন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ১৩ জন সদস্য।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিখোঁজদের বড় একটি অংশই পর্যটক- যার সংখ্যা ৫৯০ জন। এর মধ্যে ১১৪ জন নেপালি এবং ৪৭৬ জন বিদেশি নাগরিক।
সংবাদমাধ্যম ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’ জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৭৭ জন ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া নিখোঁজদের মধ্যে ৬৩ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।
রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বহু নাগরিক এই দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, তাদের দেশের অন্তত ৩৪ জন নাগরিকের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
নিখোঁজদের বড় একটি অংশ তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এ ছাড়া নিখোঁজদের মধ্যে অনেকেরই নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে ট্র্যাকিং বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে উদ্ধার তৎপরতায় হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী ও জরুরি সেবাদানকারী সদস্য কাজ করছেন। এ পর্যন্ত বহু মানুষকে সফলভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং বিস্তীর্ণ এলাকা কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে থাকায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে ত্রিশূলীসহ অন্যান্য নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে প্রবল স্রোত ও কাদার স্তূপ জমে থাকায় অনেক স্থানেই স্বাভাবিক যোগাযোগ পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অত্যন্ত দুর্গম ভূখণ্ডের মধ্যেও নিখোঁজদের সন্ধানে টানা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি সেনাবাহিনী।













