• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

আন্তর্জাতিক

এআইয়ের ভুলে চীনা জাহাজে অভিযান চালাতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র, আরেকটু হলেই বেধে যেত যুদ্ধ

প্রকাশ: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:২৫
আপডেট: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:২৫

এআইয়ের ভুলে চীনা জাহাজে অভিযান চালাতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র, আরেকটু হলেই বেধে যেত যুদ্ধ

এআইয়ের ভুলে চীনা জাহাজে অভিযান চালাতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র, আরেকটু হলেই বেধে যেত যুদ্ধ

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের বসন্তের ঘটনা। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করা চীনের একটি জাহাজে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির জন্য উপকরণ পরিবহন করা হচ্ছে। এরপর জাহাজটি থামিয়ে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন, এমন চারটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের দুজন বলেন, জাহাজটিতে ওঠার জন্য মার্কিন সেনাদের একটি সশস্ত্র দল প্রস্তুত ছিল। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান আকাশে ছিল বলেও জানায় অন্তত দুটি সূত্র। ওই অভিযান শুরুর আগে বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যাচাই করতে গিয়ে যেন কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। কর্মকর্তারা জানতে পারেন, বিশেষ অভিযানের দায়িত্বরত একজন বিশ্লেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিলেন। ওই ব্যক্তি যে চ্যাটবট ব্যবহার করেন, সেটি চীনা জাহাজে থাকা পণ্য সম্পর্কে ‘ভুল’ তথ্য দিয়েছিল।

এআইয়ের দেওয়া ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করে চীনের একটি জাহাজে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। যাচাই করতে গিয়ে যেন কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। শেষ মুহূর্তে ধরা পড়ে মারাত্মক এ ভুল।
সহজ করে বললে, চীনের কার্গো জাহাজে আসলে কী পণ্য ছিল, তা ‘ভুলভাবে’ শনাক্ত করেছিল এআই চ্যাটবটটি। এ ঘটনা নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছে সিএনএন। তবে পণ্যটি আদতে কী ছিল, সংবাদমাধ্যম তা জানতে পারেনি।

একটি সূত্রের ভাষ্য, এআই দিয়ে তৈরি করা প্রতিবেদনটি ছিল ‘পুরোপুরি মিথ্যা’। এর কারণে আরেকটু হলে ‘যুদ্ধ বেধে যাচ্ছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার মধ্যে চীনের একটি জাহাজে মার্কিন সেনারা অভিযান চালালে, সেটার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। তাঁদের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল।

এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন তাদের কাজের প্রায় সব ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের চেষ্টা করছে। যে বিপুল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়, সেগুলো বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। বাজেট, রসদ ও সরবরাহব্যবস্থা পরিচালনার মতো সাধারণ কাজেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে।

বসন্তের ওই ঘটনা যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এআই ব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। এআই এখনো নতুন প্রযুক্তি। এটি কীভাবে কাজ করে, কোথায় ভুল করতে পারে ইত্যাদি নিয়ে পুরোপুরি বোঝাপড়া এখনো তৈরি হয়নি।

বিশ্লেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, ভুল বা বিকৃত তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া এআইয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করলে ভয়াবহ ভুল হয়ে যেতে পারে। এমন ভুলের পরিণতি হতে পারে বিপর্যয়কর। যেমনটা এ ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে। এআইয়ের দেওয়া ভুল তথ্যের ভিত্তিতে চীনা একটি জাহাজে অভিযান চালাতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার। কিন্তু ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত ভয়াবহ সংঘাত ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সিএনএন জানিয়েছে, ওই মার্কিন বিশ্লেষক চীনা জাহাজটিতে থাকা পণ্যের তালিকা নিয়ে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে একটি চ্যাটবটকে প্রশ্ন করেছিলেন। তথ্য এসেছিল হাওয়াইভিত্তিক মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড প্যাসিফিক থেকে। সেটি বাণিজ্যিক কোনো এআই ছিল, নাকি মার্কিন সরকারের তৈরি ব্যবস্থা ছিল, তা স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আর গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ব্যবহৃত এআই ব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন, এমন সাবেক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহৃত এআই সরঞ্জামগুলোর বেশির ভাগ বাণিজ্যিক প্রযুক্তির আদলে নির্মিত। শুধু সাজিয়ে-গুছিয়ে তা ব্যবহার করা হচ্ছে।’

সিএনএন জানিয়েছে, সামরিক কর্মকর্তারা যেমন প্রতিবেদনের ওপর আস্থা রাখেন, এটা তেমনই একটি প্রতিবেদন ছিল। পরে প্রতিবেদনটি বিভিন্ন পর্যায়ে পাঠানো হয়।

ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড প্যাসিফিক ও পেন্টাগনের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে অনুরোধ করেছিল সিএনএন। সাড়া পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথফাইল ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে এআইয়ের ব্যবহার শুরু করেছে। কেননা যুদ্ধের সময় কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে বা কোথায় কোন সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে, এমন সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে এআই সহায়তা করছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সামরিক বাহিনীতে এআই ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। কারণ, ভবিষ্যতে চীন বা অন্য কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে, সেসব দেশ এআই ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির একদল সিনেটর সরকারি নজরদারি সংস্থাগুলোকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এআইয়ের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পরিকল্পনায় সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ভুল হয়েছে, সেগুলো তদন্ত করতে বলেছেন তাঁরা।

গতকাল শনিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ও জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটনকে পাঠানো একটি চিঠিতে ডেমোক্রেটিক সিনেটররা বিষয়টি তুলে ধরেন। চিঠিতে চীনা জাহাজকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তাঁরা।

চিঠিতে সিনেটরেরা লেখেন, সাম্প্রতিক সময়ের এসব ঘটনা তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই ব্যবহারের গতি বাড়ানো ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে কার্যকর তদারকির চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আ/আ


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com