আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
ওয়াশিংটনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর ও শীর্ষ বৈঠক শেষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। বৈঠকের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি ও ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ একটি যোগাযোগ চ্যানেল চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের পরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসে। বৈঠকে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য থেকে শুরু করে ইরানের স্থবির যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও সি চিন পিং জানান, চলতি বছর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তারা আরও দুই দফা বৈঠকে মিলিত হবেন। তবে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে জাঁকজমক ও আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও বড় ধরনের কোনো যুগান্তকারী অগ্রগতি দেখা যায়নি।
আলোচনার অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বরে শেষ হতে যাওয়া বাণিজ্য চুক্তির সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশ বাণিজ্য ইস্যুতে আলোচনার জন্য আরও সময় পাবে।
সফর শেষে ট্রাম্প জানান, বৈঠকটি সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও মজবুত করেছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুফল বয়ে আনবে। অন্যদিকে সি চিন পিং দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সুস্থ প্রতিযোগিতা’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং তা সঠিকভাবে পরিচালনার গুরুদায়িত্ব দুই পরাশক্তিরই রয়েছে।
বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য ট্রাম্পকে তাগিদ দেন সি চিন পিং। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন।
বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরে অন্তত ১ কোটি মেট্রিক টন মার্কিন কয়লা আমদানি করবে চীন। এছাড়া তিন হাজার কোটি ডলারের অসংবেদনশীল পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার কথাও রয়েছে। উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিড়িয়াখানায় দুটি পান্ডা পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সফরে রাজনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি ছিল জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ভোজসভা, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দলিলপত্র দেখার সুযোগ। এ সময় ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স মাত্র আড়াই শ বছর হলেও চীনের ইতিহাস প্রায় ছয় হাজার বছরের পুরনো।
সব মিলিয়ে বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ খোলা রাখা। আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেনে এপেকের শীর্ষ সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে মিয়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে আবারও মুখোমুখি বসবেন ট্রাম্প ও সি চিন পিং।
সূত্র: আল-জাজিরা।













