আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষকদের তীব্র সংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর প্রতিবাদে ফ্রান্সে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় দেশজুড়ে প্রায় ৪০০টি বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফরাসি সরকার জরুরি সংকটকালীন বৈঠক আহ্বান করেছে।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জফ্রে শুক্রবার (২ অক্টোবর) জানান, আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় প্রায় ৪০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে (অনলাইন) ক্লাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।Time & Calendars
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী প্যারিস ও এর আশপাশের অঞ্চলে গত মাসে শুরু হওয়া এ আন্দোলন দ্রুত পুরো ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত ভিড়, প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাব, সময়সূচির অত্যধিক চাপ এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের সুযোগে একদল সহিংস যুবক ট্র্যাশ ক্যান ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
মার্সেই শহরের একটি স্কুলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়, যেখানে দুই শিক্ষকের ওপর জ্বালানি তেল ছিটিয়ে পড়ে। অন্যদিকে স্ট্রাসবার্গে একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং তুলুসে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে তরুণদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। দেশজুড়ে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণকে আটক করেছে পুলিশ, যাদের অধিকাংশেরই বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছর।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান ল্যকরনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর সরকার এ ঘটনাকে শহুরে সহিংসতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জফ্রে বলেন, ‘সহিংসতা আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষালাভের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।’
তবে ফরাসি সরকার এই সহিংস উসকানির পেছনে চরম-বামপন্থী দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে বিরোধী নেতারা পুলিশ কর্তৃক টিয়ার গ্যাস ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কড়া সমালোচনা করেছেন। সূত্র: ফ্রান্স ২৪













