শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুরের জেরে বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে দলটির মনোনয়ন পাচ্ছেন কে? এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা চলছে। আগামী ১২ নভেম্বর এ নির্বাচন হওয়ার কথা। এ আসনে মনোনয়ন পেতে দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন একাধিক নেত্রী। চলছে দৌড়ঝাঁপ ও লবিং। এ তালিকায় রাজপথের অভিজ্ঞ নেত্রীরা যেমন আছেন, তেমনই বিভিন্ন অঙ্গনের অরাজনৈতিক বেশ কিছু মুখও তৎপর রয়েছেন। আবার কেউ কেউ পারিবারিক পরিচয়ের সূত্রেও দলীয় মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করছেন।
তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, রাজপথের ভূমিকা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার হিসাব-নিকাশও কষছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করবে দলটি। এ ক্ষেত্রে বিতর্কিত কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না। অবশ্য বিএনপির বাইরেও যুগপতের শরিক দলের কোনও নেত্রীকেও ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিএনপিতে আলোচনায় কারা?
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ করা সংরক্ষিত আসন (২৩)-এর উপনির্বাচনে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তারপরও নানা মাধ্যমে দলের একাধিক নেত্রীর নাম আলোচনায় আসছে। এ ক্ষেত্রে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা নেত্রীরাও আছেন।
উল্লেখযোগ্যরা হলেন—বিএনপির সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেত্রী হিসেবে এই দুই নেত্রীর নাম জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এর আগেও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ছিলেন।
আর আফরোজা আব্বাস মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি সংসদের সংরক্ষিত সদস্য হতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন।
আরও আলোচনায় আছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী অ্যাডভোকেট শাহিনুর বেগম সাগর। তিনি ২০১৮ সালে নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। শাহিনুর বেগম আওয়ামী লীগ আমলে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন।তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মহিলা দলের কেন্দ্রীয় স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ গত নির্বাচনে নিজ এলাকা বরগুনা থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন পাননি। আওয়ামী লীগ আমলে রাজপথের আন্দোলনে দমনপীড়ন ও একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় আসমা আজিজ দলে পরিচিত মুখ।
এছাড়াও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হল ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহিনুর নার্গিস, বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী আফরোজা খানম নাসরিন, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনা হেনা হীরার নামও শোনা যাচ্ছে।
বিএনপির বাইরে আলোচনায় যারা
সংরক্ষিত আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির বাইরেও বিগত যুগপৎ আন্দোলনের জোট শরিক দলের নেত্রীদেরও মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির শরিক একটি দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, ক্ষমতাসীন দলের প্রতি শরিক দলগুলোর কিছু অসন্তোষ রয়েছে। সে বিবেচনায় অন্তত এ আসনটিতে জোট শরিক দলের কোনও নেত্রীকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
এর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব, জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজীর নামও রয়েছে আলোচনায়।
এর বাইরে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা, দিলরুবা খান, রিজিয়া পারভীন, দিঠি আনোয়ার ও রিনা খানসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের কয়েকজন তারকাও আলোচনায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শেষ পর্যন্ত বিএনপি কাকে বেছে নেবে, সে বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে কিছু বলতে নারাজ বিএনপির শীর্ষ নেতারা। অবশ্য সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ত্যাগী ও যোগ্যরাই মূল্যায়ন পাবেন।












