শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
দেশে চাঁদাবাজি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়। নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশের এখন এই অবস্থা হইছে যে গরু-মহিষরে ঘাস খাওয়াইতে হইলেও চান্দা দিয়া খাওয়াইতে হয়। চান্দা না দিলে খামারের মাছের খাবারে বিষ মেশানো হয়।’

নিজ এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় চান্দাবাজি হইলে আমি কাউকে চিনি না। আমি তার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াব। ডান পাশে বালুচোর আর বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’
নিজের আত্মীয়স্বজনকে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে সারের ডিলারশিপ দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে রাস্তার কাজের ঠিকাদারি দিতে হবে। আমার কোনো আত্মীয় নাই, যাকে চান্দা দিয়া আপনাদের ব্যবসা করতে হবে।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখার কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো কর্মীর বিষয়ে যে কোনো অভিযোগ থাকলে নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে আমাকে জানাবেন। আপনাদের পরিচয় আমি প্রকাশ করব না। কিন্তু সেই কর্মীর ব্যাপারে যে ব্যবস্থার নেওয়ার, আমি সে ব্যবস্থা নেব। আমার কোনো কর্মী যদি আমার কোনো ভোটারের সঙ্গে একটুও বেয়াদবি করে, আমার ওই কর্মীর নাম আমার কাছে জমা দেবেন, বাকি ব্যবস্থাটা আমি করব।’
‘এত বলি টুকু কই? টুকু তো আর আসে না’ – বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কটাক্ষ
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘১৭ বছর আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা আশা করেছিলাম, আমরা জনগণের একটা সরকার পাব, যারা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবে, গ্যাসের সমস্যা সমাধান করবে, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাবে, জিনিসপত্রের দাম নাগালের মধ্যে রাখবে।’
কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন দুর্ভাগ্য, ৮০-৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি নাই। ঢাকা শহরে একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা। গরিব খাবে কী?’
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, এমন সরকার আমরা পেলাম, যাদের নামই হয়ে গেল “টুকু (বিদ্যুৎ) নাই, টুকু নাই”। এত বলি, টুকু কই? টুকু তো আর আসে না। আজকে মিটিংয়ে আইসাও টের পাইলেন, টুকু মাঝে মধ্যে টুক করে আসে বটে, কিন্তু টুকু আমাদের ঘরে থাকে না।’
গ্যাস সংকটের চিত্র তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, বাড়ির লাইনে গ্যাস নেই। এক হাজার ৮০০ টাকার সিলিন্ডারের দাম দফায় দফায় বেড়ে এখন দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকায় পৌঁছেছে।
কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও সেই পরিকল্পনার প্রভাবে ঢাকার হকার ও অটোরিকশাচালকদের বাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘ওই পরিকল্পনার ধাক্কায় গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারে কয়টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, খবর নেন। ওই পরিকল্পনার ধাক্কায় আমার কত শ্রমিক ভাই চাকরি হারিয়েছেন, একটু খবর নেন।’
সারের ডিলারশিপ ও রাস্তার ঠিকাদারি দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তার কোনো আত্মীয়কে এসব সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য।
উল্লেখ্য, মতবিনিময় সভায় পাকশিমুল ইউনিয়নের বিপুল-সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।













