জনতার আওয়াজ ডেস্ক
‘বাংলাদেশের জনগণ এখনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই ভালো সমাধান মনে করছে’.. আল-জাজিরায় দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস যে জনগণের কথা বলেছেন ‘সেই জনগণ কারা’ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মিত্র শরিক ন্যাপ-ভাসানী, আমজনতার দল ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টির সাথে আলাদা আলাদা বৈঠকের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমন প্রশ্ন রাখেন।
তিনি বলেন, ‘‘ এই জনগণ বলতে কারা?”
‘‘এই জনগণ বলতে কোনো একটা বিশেষ গোষ্ঠী সুবিধাভোগীদের বোঝাচ্ছে যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে গিয়ে, জনগণের ভোটাধিকারের বিরুদ্ধে গিয়ে, গণতন্ত্রকে-নির্বাচনকে সংস্কারের মুখোমুখি করতে চায় অথবা এরা কোনো দেশি-বিদেশি সুবিধাভোগী যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধাচারণ করছে, গণতন্ত্রকে মুখোমুখি করছে… এটা তো কারো বুঝতে কোনো কারণ নেই।”
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ এখনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই ভালো সমাধান মনে করছে…।
গত সপ্তাহে আর্থনা সামিটে অংশ নিতে দোহা সফরে গিয়ে আল জাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেন মুহাম্মদ ইউনূস। রবিবার রাতে সেই সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করেছে আল জাজিরা।
প্রধান উপদেষ্টা এও বলেছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার সেরে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই নির্বাচন হবে, তার পরে নয়।
‘এতো আত্মত্যাগ কোনো মহামানবকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়’
আমির খসরু বলেন, ‘‘ ১৬ বছরের যুদ্ধটা ছিলো বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অবস্থার অর্ডারটা ফিরিয়ে আনার জন্য, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনার জন্য। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে… জবাবদিহি থাকবে… সেটা যেই সরকারই হোক।”
‘‘কোনো মহামানবকে বাংলাদেশের দায়িত্ব দেয়ার জন্য এই বাংলাদেশের মানুষ লড়াই-সংগ্রাম করে নাই, এতো ত্যাগ স্বীকার করে নাই। আর কোনো মহামানব দেশের গণতন্ত্রের সমাধান দেবে তার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে অপেক্ষা করতে হবে… সেটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নাই।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যারা ফ্যাসিবাদ অবসানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় লড়াই করেছে… আমাদের সাথে যারা রাস্তায় ছিলো ইতিমধ্যে ৫০টি দল পরিস্কারভাবে ব্যক্ত করেছে ডিসেম্বরের আগে নির্বাচন দিতে হবে এবং সাথে সাথে সংস্কারের যে কথা বলা হয় যে সংস্কারগুলোতে ঐকমত্য হবে সেই সংস্কারগুলো ইমিডিয়েটলি করে নির্বাচন কমিশনকে বলা হোক নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করে রোডম্যাপ দিয়ে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়াটা।”
গুলশানে সোমবার তিনটি রাজনৈতিক দলের সাথে আলাদা আলাদাভাবে বিএনপির নেতৃবৃন্দ আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বৈঠকে বসেন। ন্যাপ-ভাসানীর নেতৃত্বে দেন দলটির চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম। তাছাড়া, আমজনতার দলের নেতৃত্ব ছিলেন দলটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মশিউজ্জামান এবং বাংলাদেশ পিপলস পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা আখতার।












