• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

সিলেটের খবর

দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুল বন্ধ, এনামুলের স্ট্যাটাস থেকে যা জানা গেলো

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫ ২:৪৪
আপডেট: সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫ ২:৪৪

 

১ম পর্ব

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্টিত গোলাপগঞ্জের দিশারী প্রি-ক্যাডে স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি বছর স্কুলটিতে দু’একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হলে শেষ পর্যন্ত নতুন পুরাতন যে ৫০/৬০ জন শিক্ষাথী ছিলো, তারা সবাই অন্যত্র চলে যান। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটি বা প্রতিষ্টাতাদের মধ্যে যারা স্কুলটির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত তাদের কেউ কিছু প্রকাশ্যে বক্তব্য না রাখায় বা ব্যাখ্যা না দেয়ায় না না বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

তবে এ ব্যাপারে সম্প্রতি নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে স্কুলটির প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক এবং সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক এনামুল কবীর দুই কিস্তির লেখায় অব্যাবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেছেন।

তার স্ট্যাটাস থেকে জানা যায় আর্থিক অনিয়ম, মৃত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করা, বৈষম্যমূলক আচরণ- দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা এসব অনিয়মের কারণেই স্কুলটির এই করুণ পরিণতি।

অনেক বড় সেই লেখার খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ আমাদের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

তিনি লেখেন, কেবলমাত্র এলাকাবাসীর দান আর শিক্ষার্থীদের বেতনের উপর নির্ভর করে দিশারীর পথচলা শুরু এবং এতগুলো বছর টিকে থাকার পর এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

এবারতো কোনো শিক্ষার্থী ভর্তিই হয়নি। পুরানো যারা ছিল তারাও অন্যান্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলে গেছে। পড়ে আছে বিশাল ভবন, মাঠ আর অন্যান্য আসবাব।

একসময় দোকানকোটা ভাড়া নিয়ে চলা এই স্কুলটির এখন নিজস্ব জমি ও ভবন হওয়ার পর এমন করুন পরিণতি কেন?

কারণ প্রচুর। তবে প্রধানটা হচ্ছে অব্যবস্থাপনা। স্কুলটিতে আমার জীবনের ৬টা বছর কেটেছে সহকারী শিক্ষক হিসাবে। তাই খুব কাছ থেকে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আমি দেখেছি। সুন্দর শৃঙ্খলায় ফেরাতে অন্যান্য সহকর্মীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাতাদের কাছে ধর্না দিয়েছি, ঘুরেছি এমনকি, আর্থিক অনিয়ম নিয়ে লিফলেট বিতরণও করেছি প্রকাশ্যে। কিন্তু হতাশ হতে হয়েছে। কেউ সাড়া দেননি। দু’একজন সাড়া দিয়ে সভার পর সভায় যোগ দিয়েছেন বটে, কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারেন নি।

১৯৯৯ সালে তৎকালীন কর্মরত শিক্ষকরা মিলে প্রাপ্ত ডকুমেন্টের ভিত্তিতে দেখলাম ৭০/৮০ হাজার টাকার কোনো হিসাব নেই। অথচ তখন শিক্ষকদের বেতন ছিল মাত্র ৬শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা । অনেক চেষ্টা তদবির করেও এর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

আজ ২৪/২৫ বছর পর এসে শুনছি স্কুলটির তহবিল থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার কোনো হদিস মিলছেনা। কেন? হদিস মিলবেনা কেন? উল্টো তার সমাধান হয়েছে ধামাচাপার মাধ্যমে। কেন? ধামাচাপাইবা হবে কেন? এই টাকায় শিক্ষকদের রক্ত বা ঘাম মেশানো, প্রবাসীদের রক্ত পানি করা এই টাকাটা তারা দিয়েছিলেন স্কুলের জন্য, কোনো ব্যক্তির জন্য না। তাহলে এটা গায়েব হবে কেন? আর হিসাব নাই বলে ক্ষমা করা বা চাওয়াইবা হবে কেন?

এমন আরও অনেক প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন প্রবাসী দাতাদের কেউ কেউ। বিভিন্ন গ্রুপে তারা প্রশ্ন রাখছেন ঠিকই, কিন্তু জবাব মিলছেনা।’

তার এই স্ট্যাটাসটি আপলোড হয় গত ২০ মে ২০২৫ দুপুরে।

তার এই লেখা পড়ে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী জানতে পারেন স্কুলটি বন্ধ হয়েছে এবং দাতাদের অনেকে দুঃখ কস্ট ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ আবার নতুন করে শুরুর প্রত্যাশাও ব্যাক্ত করেন।

এরপর তার দ্বিতীয় স্ট্যাটাসটি আপলোড হয় ২৫ মে ভোরের দিকে। এ পর্বে তিনি লেখেন, এ পর্বেও তিনি যথারীতি অব্যবস্থাপনাকেই স্কুল বন্ধের কারণ হিসাবে দায়ী করেছেন।

তিনি লিখেছেন, প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী চালাতে হয়। নইলে অসন্তোষ বাড়ে এবং একসময় তার বিস্ফোরণ হয়।

আমাদের সবার প্রিয় দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সেটা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে চলেনি বা চালানো হয়নি। ব্যাক্তির আধিপত্যে কোনঠাসা অবস্থায় থাকতে হয়েছে। কেউ ৫/৬ ঘন্টা কাজ করে যে মূল্যায়ন পেয়েছেন, দেখা গেছে ১/২ ঘন্টা কাজ করে তারচে দ্বিগুণ বা তিনগুণ মূল্যায়ন পেয়েছেন অন্য কেউ। প্রতিবাদ হয়েছে কিন্তু সমাধান হয়নি।

হিসাব নিকাষে অসচ্ছতা ছিলো সবসময়। নামমাত্র বেতনে শিক্ষকবৃন্দ কাজ করছেন। এ অবস্থায় যদি বিভিন্ন ধরনের ফি, সার্টিফিকেটের টাকা, ভর্তিখাতের টাকা, দেশী-বিদেশী দান-অনুদান- এমনকি বাচ্চাদের স্কুলড্রেসের টাকা- ইত্যাদির ক্ষেত্রে অসচ্ছতা থাকে, তাহলে ক্ষোভ দানা বাঁধবেই। হলোও তাই। সেই ক্ষোভ থেকে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা এবং ২০০৭ বা ২০০৮ সালের দিকে সব শিক্ষক কে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়।

কয়েকজন সহকারী শিক্ষক আলাদা একটা স্কুল করার চেষ্টা করেন। তখন আবার সব পক্ষ ছাড় দেয়ায় দেশ এবং প্রবাসে থাকা সবার প্রচেষ্টায় একটা সমঝোতা হয় এবং স্কুলের কার্যক্রম আবার সচল হয়।

এর আগে অবশ্য সম্মানিত প্রবাসীদের দানে স্কুলের নিজস্ব জমি হয়, ভবনও হয়। কিন্তু ব্যবস্থাপনার সমস্যা থেকেই যায়। সেই যে অসচ্ছতা আর বৈষম্যমূলক আচরণ, এসব থেকে আর মুক্তি মিলেনি। স্কুলও চলছিল অনেকটা, চলছে গাড়ি যাত্রা বাড়ির মতো। নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দ্রুত। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকে খুব।’

অব্যবস্থাপনার ফিরিস্তি দিতে গিয়ে তিনি ২০২৩ সালে গঠিত কমিটির দায়িত্ব পালনে মোটামুটি সন্তোষ প্রকাশ করে লেখেন, কমিটির কয়েকজন জানালেন, লন্ডন ফেরত এলাকার এক শিক্ষানুরাগীর বাড়িতে কিছু অর্থসহায়তার জন্য গিয়েছেন একাধিকবার। কিন্তু তিনি তাদেরকে ফেরত পাঠিয়েছেন ঘরে থেকেও ‘বাড়ি নেই’ বলে। অথচ দিশারী নানাভাবে তার কাছ থেকে উপকৃত হয়েছে- আমি নিজে সাক্ষি। এমন অপমানজনক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যারা স্কুলটাকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেন, তারা একদিন সকালে বা বিকালে এসে দেখেন একজন আর্টিস্ট স্কুলের দেয়াল থেকে একটা শব্দ, থানা বা উপজেলার নাম মুছে ফেলে, ‘আছিরগঞ্জ সিলেট’ করে দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে তারা জানলেন, লন্ডন থেকে কেউ একজন আর্টিস্ট কে কল দিয়ে কাজটি সেরে ফেলেছেন। কেন? এভাবে কেন? এটাকি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে হলো? এটাতো তারা কমিটিকে বলার কথা। কমিটি সভা করবে। সভায় আলোচনা হবে, প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট, সিদ্ধান্ত রেজ্যুলেশন হওয়ার পর আর্টিস্ট ডাকার কথা।
চলবে …………….

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম