• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

পুলিশি বাধা ভেঙে রাজপথ অবরোধ ছাত্র-জনতার

প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫ ২:৪৯
আপডেট: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫ ২:৪৯

9666629 2

পুলিশি বাধা ভেঙে রাজপথ অবরোধ ছাত্র-জনতার

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার টানা চতুর্থ দিনের মতো ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। এদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে স্রোতের মতো ছুটতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পিছু হটে পুলিশ। আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থেকে বাংলামোটরগামী সড়কে দফায় দফায় মিছিল করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

রাজধানীর নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব ও আগারগাঁওয়েও পুলিশ বাধা দেয়। আগারগাঁওয়ে সংঘর্ষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী আহত হন। কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। গুলি ও টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ। এ সময় ২৬ জন আহত হয়। চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ ছাড়া বরিশাল ও কুষ্টিয়াসহ আরও কয়েকটি জায়গায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই শাহবাগসহ আশপাশের সড়কে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারা সাঁজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। পুলিশি ব্যারিকেডে চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

বেলা সাড়ে ৩টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। দুপুরের দিকে বৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শুরু করতে কিছুটা দেরি করেন। তারা সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘ভয় দেখিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী শাহবাগ মোড়ের দিকে এগিয়ে যান।

বিকাল ৫টার পর থেকে শাহবাগ মোড়ে আরও অনেক শিক্ষার্থী জড়ো হন। শিক্ষার্থীদের আটকানোর জন্য পুলিশ শাহবাগ থেকে বাংলামোটরগামী রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান। পুলিশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিকাল থেকে শাহবাগ, বাংলামোটর, হাইকোর্টে, নীলক্ষেতসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেয় পুলিশ। বিকাল সাড়ে ৪টার পর থেকে শাহবাগের আশপাশের সব সড়কে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। বিকাল ৪টায় শাঁখারীবাজার, তাঁতিবাজার ও গুলিস্তানে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগে আসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্বর্ণা রহমান বলেন, কোনো বাধা আমাদের আটকাতে পারবে না। দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব।

বিকালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়। তিন শিক্ষার্থীকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, আন্দোলনকারীরা সায়েন্সল্যাব মোড় এবং নীলক্ষেত মোড়ে গেলে পুলিশের বাধায় কোথাও বসতে পারেনি। বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ না করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে যাত্রা করেন। এ বিষয়ে নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রেফাতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সড়ক বন্ধ করে কেউ অবস্থান নিতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করার অনুরোধ জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন। এদিন বেলা সোয়া ৩টার দিকে কুমিল­া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে গেলে আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন স্থানে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রথমে ধস্তাধস্তি হয়। পরে আবাসিক হল ও মেসের প্রায় ৭০০-৮০০ শিক্ষার্থী এসে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হতে চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। পরে শটগান দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ও পাথর নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে ইত্তেফাকের সংবাদদাতা মানছুর আলম অন্তর, আমাদের সময়ের অনন মজুমদার, এখন টেলিভিশনের মাসুদ আলমসহ প্রায় ২৬ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে হল থেকে আরও ৫০০-৬০০ শিক্ষার্থী এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন। থেমে থেমে ২ ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহাসড়কের কোর্টবাড়ী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সরে যেতে বাধ্য হয় এবং বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন।

দুপুর আড়াইটা থেকে চট্টগ্রামের বটতলী রেলস্টেশনে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা রেললাইন অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ রেললাইন থেকে তাদের সরিয়ে দেয়। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টাইগারপাস এলাকায় সড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। সড়ক অবরোধ করতে না পারলেও পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শিক্ষার্থীরা দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থান নিলে ফের লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরে আবারও একত্রিত হয়ে সেখানে অবরোধ করেন তারা। এতে নগরীর একাংশে যান চলাচলে অচলাবস্থা দেখা দেয়। এদিকে নগরীতে লাঠিচার্জের খবরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা এক নম্বর গেটে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে জড়ো হতে থাকেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তারা নগরী থেকে উত্তর চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি যাওয়ার সড়কটি অবরোধ করেন। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ৩ ঘণ্টা অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নেয় সাভার হাইওয়ে থানা এবং আশুলিয়া থানা পুলিশের শতাধিক সদস্য।

এ সময় তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয় ফটক। পরে প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সড়কের উভয় পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেন। এ ছাড়া পুলিশের নিয়ে আসা একটি জলকামান ও কয়েকটি ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে কোটা সংস্কারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com