• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

বাড়ছে পদ্মার পানি, যেকোনো মুহুর্তে পেরিয়ে যেতে পারে বিপৎসীমা

প্রকাশ: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ৪:২৮
আপডেট: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ৪:২৮

বাড়ছে পদ্মার পানি, যেকোনো মুহুর্তে পেরিয়ে যেতে পারে বিপৎসীমা

রাজশাহী প্রতিনিধি

ছবি প্রতিনিধি

‎রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী জেগে ওঠা চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের জমি ও বসতবাড়ি। গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন চরবাসীরা।
‎
‎বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯ টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১৭.৯৪ মিটার, যা বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটারের মাত্র . ৫৬ মিটার নিচে। পানি বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে টি-বাঁধ এলাকা সহ সকল শহর রক্ষা বাধে প্রবেশ ও পরিদর্শন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাশাপাশি নদীর পাড় সংলগ্ন ব্যবসায়ী ও দোকানিদেরও স্থানত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‎
‎পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ জুলাই রাজশাহীতে পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করে। ওইদিন পানির উচ্চতা ছিল ১৬.৩৫ মিটার। পরবর্তীতে পানি কিছুটা কমলেও ৩১ জুলাই থেকে আবারও বৃদ্ধি শুরু হয় এবং এখনও তা অব্যাহত আছে।

‎গত ১০ আগস্ট সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭.১৩ মিটার, যা একই দিনের সন্ধ্যায় বেড়ে দাঁড়ায় ১৭.২২ মিটারে। ১১ আগস্ট সকালে তা হয় ১৭.৩২ মিটার এবং সন্ধ্যায় পৌঁছায় ১৭.৩৯ মিটারে।তবে আজ পানির উচ্চতা বেড়ে ১৭.৯৪ মিটারে পৌছেছে। ফলে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছিই অবস্থান করছে বলে জানা যায়।
‎
‎পানি বৃদ্ধির ফলে রাজশাহী ও সংলগ্ন বিভিন্ন চরের ওপরের অংশ ডুবে গেছে। চর খিদিরপুরের বাসিন্দা মাসুদ বলেন, “নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চরগুলো তলিয়ে গেছে। আমরা গবাদিপশু ও মালামাল লোকালয়ে নিয়ে রাখছি।
‎
‎পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সহিদুল ইসলাম বলেন, “অনেকের বাড়ির কাছে পানি পৌঁছে গেছে। চর ছেড়ে লোকালয়ে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, তবে গবাদিপশু নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি।”

‎পাউবোর গেজ রিডার এনামুল হক জানান, রাজশাহীতে পদ্মার বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটার। সোমবার সন্ধ্যায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭.৩৯ মিটার, যা বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি।
‎
‎স্থানীয়দের ধারণা, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত বা গঙ্গার পানি প্রবাহ বাড়তে থাকলে পদ্মার পানি দ্রুত বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে আরও ব্যপকভাবে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কৃষি জমি, বসতবাড়ি ও গোখাদ্যের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
‎