জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সর্বশেষ বান্দরবান আসনে (সংসদীয় আসন-৩০০) আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা তৎপরতা শুরু করেছেন। দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থান জানান দিতে চায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। আসনটি টানা ৭ বার আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবার দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি। প্রত্যাশা রয়েছে জামায়াতেরও। আর দীর্ঘদিনের মাঠে শক্ত অবস্থান জানান দিতে চায় পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি। তবে, এখন পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় দেখা গেছে বিএনপি-জামায়াতকে। এ দু’দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা উপজেলা পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালন করছেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা নির্বাচনী প্রচারণায় না থাকলেও কমিটি গঠন ও দল গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর বাইরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী বাছাই করে জোটবদ্ধ নির্বাচনের কথা ভাবছেন। তবে, মাঠে নেই জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগ।
তৎপর বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশীরা: নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোহাম্মদ জাবেদ রেজা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকার শীর্ষে রয়েছে। প্রায় অর্ধযুগের বেশি সময় পর বান্দরবান জেলা বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ। এরপরও শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে পৃথক কিছু দলীয় কর্মসূচি পালন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা গেছে। তবে হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও কেন্দ্র ঘোষিত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবে এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় জেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। হাইকমান্ড তৃণমূলের জনপ্রিয়তা যাচাই করে যাকে যোগ্য মনে করে প্রার্থী করবেন, তাকে বিজয়ী করা হবে। এদিকে তিনি নিজ থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা না দিলেও দলের একটি অংশ চায় তরুণ হিসেবে জেলা সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা মনোনয়ন পাবেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলের গ্রিন সিগন্যাল অনুযায়ী ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীদের অগ্রধিকার দেয়া হবে আসন্ন নির্বাচনে। সে অনুযায়ী বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ার তালিকায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন জেলা বিএনপি’র বর্তমান আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরী। এ বিষয়ে জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বলেন, আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর তৃণমূলে দলকে গুছানোর কাজ চলছে। প্রার্থীর বিষয়ে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মানতে সবাই ঐক্যবদ্ধ।
বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকে এবারো মনোনয়ন চাইবেন বোমাং সার্কেলের পুত্রবধূ ও সাবেক জেলা বিএনপি সভাপতি মাম্যাচিং। তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন। মার্মা নারীদের মধ্যে প্রথম স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তিনি। বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার পর ৫ম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের (মহিলা) এমপি ছিলেন তিনি।
জানতে চাইলে জেলা বিএনপি’র সিনিয়র নেত্রী মাম্যাচিং বলেন, প্রার্থী কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ব্যাপার, তবে আমার জানা মতে, এখনো কেন্দ্র থেকে বান্দরবানে কাউকে সিগন্যাল দেয়া হয়নি। কেন্দ্র যাকে ভালো মনে করেন তার পক্ষে কাজ করতে হবে। বিএনপি’র ঐক্য ধরে রাখার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা বিএনপি’র বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজা বলেন, সাচিং প্রু জেরী ও মাম্যাচিং দলের শীর্ষ ব্যক্তি, তারাই অগ্রাধিকার পাবেন।
এদিকে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. সারোয়ার আলম। ২০১৮ সালে তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন বান্দরবান ৩০০নং আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গত ৭ই ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও জেলা পরিষদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম। জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, আলীকদম এবং সদর উপজেলায় জামায়াতের আলাদা ভোট ব্যাংক রয়েছে। বান্দরবানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জনসংহতি সমিতির অবস্থানে জামায়াতের অবস্থান তৃতীয়। সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতি বাড়িয়েছে। জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট আবুল কালাম বলেন, আমি নেতা হতে চাই না, জনগণের সেবক হতে চাই। আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী শক্তিকে অর্ধেকের বেশি আসন নিয়ে শাসনব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই জন্য জামায়াতে ইসলামী ভোটের মাঠে কাজ করছে।
নির্বাচনমুখী জনসংহতি সমিতি (জেএসএস): জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবানে বড় দুই দল ছাপিয়ে আলোচনায় রয়েছে আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতি। উপজাতি অধ্যুষিত পাহাড়ের ভোটের মাঠে এই দলটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এবার বান্দরবানে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নির্বাচনে আসবেন এমনটি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা কেএস মং। তিনি জানান ‘জনসংহতি সমিতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু কীভাবে করবে, সে বিষয় জানানো হবে’। প্রার্থী হিসেবে দল তাকে মনোনীত করলে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ: জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম প্রার্থী হবেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, ইসলামী দলগুলো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে এবং জেএসএস একক প্রার্থী দিলে বড় দলগুলোর একক আধিপাত্য অনেকটা কমবে।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় ভোটাররা জানান, বান্দরবান জেলার ৩০০ নং আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও মাঠপর্যায়ে বিএনপি’র অবস্থান অনেকটাই ভালো। তবে তরুণ, যুবসমাজ ও বান্দরবানের অধিকাংশ ভোটাররা চান রাজনৈতিক যোগ্য, কর্মঠ ও তারুণ্য নেতাকে জাতীয় সংসদে পাঠাতে।













