• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

সারাদেশ

কর্মীর শরীরে ৪২ কোপ, ৯ বছর পর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এ্যানি

প্রকাশ: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৮:৩৬
আপডেট: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৮:৩৬

কর্মীর শরীরে ৪২ কোপ, ৯ বছর পর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এ্যানি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সানারপাড় এলাকায় আন্দোলনের সময় বিএনপির মিছিলে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের বর্বর হামলার শিকার হন লক্ষ্মীপুরের যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান ছুট্টু। হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন মিয়াসহ তার লোকজনের ৪২ কোপে ছুট্টু মৃত্যুশয্যায় পতিত হয়। তার বাম হাতের একটি আঙুল কেটে দেয়। কেটে দেওয়া হয়েছিল ডান পায়ের রগ।

মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে সেই কোপের চিহ্নই প্রমাণ করে ঘটনার ভয়াবহতা।
সম্প্রতি স্থানীয় একটি অনলাইন গণমাধ্যমে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে থাকা ছুট্টুকে নিয়ে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে ছুট্টু নিজেই বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির কাছে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়া দাবি জানান। ভিডিওটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি নেতা এ্যানি চৌধুরীর নজরে পড়ে।

এতে তারেক রহমানের নির্দেশে ছুট্টুর চিকিৎসার দায়িত্বভার নেন এ্যানি চৌধুরী।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ্যানি চৌধুরী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের মুসলিমাবাদ গ্রামে ছুট্টুর বাড়িতে যান। সেখানে তিনি ছুট্টুর চিকিৎসার দায়িত্ব, ঘর নির্মাণসহ তার ছেলের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় ছুট্টুর সব কথা শোনেন এবং তার ভাই ইব্রাহিম ও গিয়াস উদ্দিনসহ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এ্যানি চৌধুরী।

এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন মিয়াসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি এম বেল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এম ইউছুফ ভূঁইয়া, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি বদরুল ইসলাম শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল প্রমুখ।

এ্যানি চৌধুরীকে ছুট্টু জানান, হাজিরপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এলাকায় থাকতে না পেরে সিদ্ধিরগঞ্জে সানারপাড় এলাকায় ভাইয়ের বাসায় গিয়ে অবস্থান নেন। ২০১৬ সালে বিএনপির মিছিলে গেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়াসহ তার লোকজন তাকে আটক করে।

সেখানে প্রথমে তার হাতের আঙুল কেটে দেয়। একে একে তার শরীরে উপর্যুপরি কুপিয়ে মৃত ভেবে তাকে ফেলে রাখে।
স্থানীয়রা জানায়, ছুট্টু মুসলিমাবাদ গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। তার একটি সুন্দর সংসার ছিল। হামলার পর তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। প্রথমদিকে তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান পাশে থাকলেও পরবর্তীতে স্ত্রী অন্যত্র চলে যায়। সন্তানের দায়িত্বও আর নেননি। সন্তান এখন এতিমখানায় বড় হচ্ছে। পরে তাকে দেখাশোনার জন্য গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি ও এক চাচাতো ভাইকে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে রেখেছে তার ভাইয়েরা। তিনি এখনো নিজে খাবার খেতে পারেন না, হাতে তুলে দিতে হয়। কারণ হাতের আঙুলগুলো মুষ্ঠিবদ্ধ করার শক্তি তার নেই। একা উঠে দাঁড়াতেও পারেন না তিনি।

ছুট্টুর ভাই বিল্লাল হোসেন বলেন, ছুট্টু তিন মাস ইউরোপ বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন মাস লাইফ সাপোর্টে ছিল। ৬ মাস ওই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছে। তার চিকিৎসায় ৪২ লাখ টাকা খরচ করেছি। এরপর বাড়িতে এনেও তাকে বেডে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ্যানি চৌধুরী বাড়িতে এসে ছুট্টুর চিকিৎসার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। ছুট্টু আবারো চিকিৎসা পাবে, এতে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তারেক রহমান ও এ্যানি চৌধুরীর প্রতি।

ছুট্টুর ভাই গিয়াস উদ্দিন বলেন, মস্তিষ্কে আঘাতের কারণে ছুট্টু স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারবে না। তখন চিকিৎসকরা বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। আর্থিক সংকট আর আওয়ামী লীগের লোকজনের কারণে আমরা তা পারিনি। মামলা করতে গেলেও আওয়ামী লীগের লোকজনের ভয়ে পুলিশ মামলা নেয়নি।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com