জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, জামায়াত ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় অন্যান্য দলের চেয়ে তারা কিছুটা এগিয়ে আছে। সেইজন্যে তারা নির্বাচনে যাবে না এটা বলা ঠিক হবে না। আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা হলে সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
বুধবার (১ অক্টোবর) রংপুরের সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাসী। সকল ধর্মের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে। বিএনপির রাজনীতি আমরা সবাই বাঙালি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী। আলাদা আলাদা ভাবে কিছু দেখার নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশি। পার্বত্য অঞ্চলে যারা আছেন, তাদের একটা ধর্ম আছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান— সবাই বাংলাদেশি। এই রাজনীতিটা সামনে রেখে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেটা এগিয়ে নিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই রাজনীতিটা ধারণ করে গত ১৬-১৭ বছর আমাদের নেতা তারেক রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে যেসব ভাইবোন ও আমাদের সন্তানরা, ছাত্র-ছাত্রীরা জীবন দিয়েছেন তারা এখন আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আমাদের হৃদয়ে আছেন। সৃষ্টিকর্তা যেন তাদেরকে বেহেশত নসিব করেন।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশে যাতে গণতন্ত্র ফিরে না আসে তার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যারা বাংলাদেশে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করেছিল তারা পালিয়েছে বটে, কিন্তু বসে আছে এটা বলা যাবে না। তাই যারা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন, শহীদ হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন আগামী দিন সহজ হবে না। স্বৈরাচারীর পতন হয়েছে বলে ঘরে বসে থাকলে হবে না। ঘরে ঘরে যেতে হবে, কারণ আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী কাজ করছে। তারা একটা বিভ্রান্তি ছড়াতেও পারে। সেই বিভ্রান্তি রুখে দেওয়ার জন্য প্রতিটি ঘরে ঘরে যেতে হবে, যাতে জাতীয়তাবাদী সরকার গঠন করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে সামনে এগিয়ে নিতে পারি, তার জন্য কাজ করতে হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজামণ্ডপ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আজকের দিনটাই শেষ নয়। যে কোনো সময় যদি কোনো ঘটনা দেখেন তাহলে সাথে সাথে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রশাসনকে জানাবেন। প্রশাসন ও বিএনপি দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাস রুখার জন্য ঐক্যবদ্ধ আছে।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা দেশে গণহত্যা চালিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচার ছাড়া গণহত্যাকারীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় অন্যান্য দলের চেয়ে তারা কিছুটা এগিয়ে আছে। সেইজন্যে তারা নির্বাচনে যাবে না এটা বলা ঠিক হবে না। যারা পিআর চাইছে তারা নির্বাচন করে যদি ক্ষমতায় যেতে পারে তাহলে তারা পিআর প্রতিষ্ঠা করবে। পিআর তো বিএনপির দায়িত্বে বা কাঁধে নয়। আমরা ৩১ দফার ভিত্তিতে নির্বাচন করব। যেকোনো দল তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে পারে, সেটা পিআর নিয়ে হোক আর অন্য কিছু নিয়ে হোক। তবে আমি বিশ্বাস করি নির্বাচনের দিন-তারিখ ঘোষণা হলে সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।













