জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেই বিএনপি’র মনোনয়ন ঘিরে দলের ভেতরে দ্বিধাবিভক্তি স্পষ্ট হচ্ছে। চার বছর আগে বিএনপি’র সাবেক ও তৎকালীন সংসদ সদস্যের অনুসারীদের বাদ দিয়ে জেলা বিএনপি’র নতুন নেতৃত্ব বেছে নেয় দল। তখন থেকেই দলের ভেতরে অন্তর্কোন্দল চলছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপি’র বর্তমান নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে পুরনোদের ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিতদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা সেই উদ্যোগ নেননি। এমনকি জেলা বিএনপি নেতাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিচ্ছেন দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক সমাবেশে আসছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- সে বিষয়টি জেলা বিএনপি’র নেতাদের জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে কী করবে জেলা বিএনপি- সেটি নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। তবে জেলা বিএনপি’র নেতারা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি’র ঘোষিত প্রার্থী তালিকা নিয়ে তৃণমূলে অসন্তোষ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করবো। এনিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া। অভিযোগে তিনি বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থীরা জেলা/উপজেলা কমিটিকে উপেক্ষা করে স্বতন্ত্রভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এই সমন্বয়হীনতা নেতাকর্মীদের বিভক্ত ও দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা না করে শুধুমাত্র তাদের ব্যক্তিগত বিতর্কিত ইমেজ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে- যার নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে সাবেক এমপি মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হারুনুর রশিদের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি’র ঘোষিত প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে জেলার ১ ও ২ আসনে আসনে তৈরি হওয়া বিরোধ গত কয়েকদিনে আরও প্রকাশ্যে এসেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী নিয়েও অন্তর্কোন্দল রয়েছে তবে- সেটি প্রকাশ্যে আসেনি। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থীদের বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে দলটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনয়ন বঞ্চিত সৈয়দ শাহীন শওকতের অনুসারীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি, জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম তুহিন, রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র তারিক আহমেদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা ইমদাদুল হক মাসুদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের মনোনয়নবঞ্চিত ও জেলা বিএনপি’র শীর্ষ দুই নেতার সঙ্গে এখনো কথা বলেননি সম্ভাব্য প্রার্থী হারুনুর রশিদ। এমনকি প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পরও ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুই পক্ষ আলাদা কর্মসূচি পালন করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা বিএনপি’র সঙ্গে কোনো সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া হয়নি সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের দলীয় কার্যালয়ে বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন। সেখানে জেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে জেলা তিনটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত পৌর বিএনপির এক নেতা অভিযোগ করেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২১ সালে জেলা বিএনপির কমিটি দেন। কমিটি ঘোষণার পর থেকে অনেকেই নিজেদের দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে গুটিয়ে নেন। এখন তাদের নামই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায়। দেখা যাচ্ছে, যারা দলের সঙ্গে ছিলেন না, তারাই বিএনপি’র নামে ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা করছেন। এতে আমাদের মতো তৃণমূলের কর্মীদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে। মনোনয়নের আগে অন্তত জেলা বিএনপি’র নেতাদের মতামত নেয়া উচিত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে কী করবে জেলা বিএনপি- সেটি নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। জেলা মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক মাসউদা আফরোজ হক শুচি জানান, নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট উপজেলার প্রত্যেক নেতাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তৃণমূল নেতারা দলের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে যেকোনো দাবি জানাতে পারেন। শেষ পর্যন্ত আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করবো। কিন্তু বিএনপি’র কমিটিকে তথাকথিত ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এতে দল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, যেসব আসনে বিএনপি এমপি নির্বাচিত হবে না সেখানে দল কারা করবে।
উল্লেখ্য, বছর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম জাকারিয়াকে আহ্বায়ক এবং রফিকুল ইসলামকে (চাইনিজ রফিক) সদস্য সচিব করে তিন সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপুকে। পরের বছর ৫১ সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করে বিএনপি।
মোশনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ই জুন অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক জেনারেল ইলেকশন সাপোর্ট (ব্যালট) প্রকল্পে অংশ নেয়। যা জাতিসংঘের ইউএনডিপি, ইউএন উইম্যান ও ইউনেস্কোর মতো তিনটি সংস্থার মিলিত প্রচেষ্টার অংশ।
অ্যাবিগেল বয়েড অস্ট্রেলিয়া সরকারকে বাংলাদেশ ইস্যুতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া সরকারকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার কথা বলেন। তার অন্যান্য দাবিগুলো হলো- বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল প্রার্থীর নিরাপত্তা, চলাফেরা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের স্বাধীনতা নিশ্চিতে চাপ দিতে হবে। দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখতে হবে। প্রবাসীদের জন্য ডাকভোট ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও কারচুপিমুক্ত করতে সহযোগিতা করতে হবে।













