সংগৃহীত ছবি
জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ, অপ্রকাশিত ও অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মাছ ধরা কোনো একটি দেশের পক্ষে এককভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এজন্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সুশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের দ্য পেনিনসুলা হোটেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস আয়োজন করা চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ব্লু ইনোভেশনস: সেইফগার্ডিং ওশান হারমনি’-এর দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব মন্তব্য করেন।
ফরিদা আখতার বলেন, মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল আহরণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর সুশাসন অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, ব্লু ইকোনমিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করায় বিজ্ঞান, নীতি এবং কমিউনিটি–ডেভেলপমেন্টের সমন্বয়ে টেকসই সামুদ্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপদেষ্টা ড. ফ্রিটজফ নানসেন কর্মসূচির ২০২৫ সালের সামুদ্রিক জরিপের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত সাত বছরে ছোট পেলাজিক মাছের মজুদ ১ লাখ ৫৮ হাজার টন থেকে কমে ৩৩ হাজার ৮১১ টনে নেমে এসেছে, যার ফলে হ্রাসের হার ৭৮.৬ শতাংশ। বড় শিকারি মাছের কমে যাওয়ার কারণে জেলিফিশের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য সংকেতবহুল। তিনি বলেন, এই তথ্য ইকোসিস্টেমে দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে দেখায়।
ফরিদা আখতার নীতিনির্ধারণে দেশীয় গবেষকদের গবেষণালব্ধ তথ্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি ইকোসিস্টেম সুরক্ষা, সমুদ্রভিত্তিক পরিকল্পনা এবং জলবায়ু–সহনশীল মৎস্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপদেষ্টা ইলিশ মাছকে জাতীয় ও বৈশ্বিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বে ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ শীর্ষে থাকলেও বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হুমকির মুখে রয়েছে। সাগরের প্রতিটি স্তরে ইলিশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। প্লেনারি সেশনে ‘গ্লোবাল ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়ন: চ্যালেঞ্জ, অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত অন্তর্দৃষ্টি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের বিজনেস স্কুলের প্রফেসর ড. পিয়ের ফাইলার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের পরিচালক ড. শেখ আফতাব উদ্দিন আহমেদ। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন।













