আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
কলকাতার পার্ক সার্কাসে বাংলাদেশি উপদূতাবাসের সামনে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) হিন্দু যুবক দীপু দাসের ময়মনসিংহে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান শুভেন্দু অধিকারী। বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। এসময় শুভেন্দু অধিকারীও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রাস্তায় বসে ছিলেন।
এ সময় তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে বলেন, ‘দীপুকে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ হাইকমিশনকে এখানে থাকতে দেব না। তাদের এটি তালাবদ্ধ করতে হবে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর সীমান্তে এক ঘণ্টার প্রতীকি অবরোধ হবে এবং ২৬ ডিসেম্বর আমরা আবারো জড়ো হব।’ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানও শোনা গেছে।
অন্যদিকে আসামের ৫০টিরও বেশি স্থানে ‘বাঙালি পরিষদ, আসাম’ ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচীতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের কুশপুত্তলিকা পুড়ানো হয়েছে। সংগঠনটির রাজ্য সভাপতি ডাঃ শান্তনু কুমার সান্যাল জানিয়েছেন, তারা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশি হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পরপর দুই দিন হামলার ঘটনায় সব সেবা ও ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত শনিবার ও রবিবার (২০ ও ২১ ডিসেম্বর) হাইকমিশনের প্রধান ফটকের সামনে দুই শতাধিক দুষ্কৃতিকারী বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দিতে এবং হামলা চালাতে দেখা গেছে। হামলাকারীরা ‘অখণ্ড হিন্দুরাষ্ট্র’ নামে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না; বরং কেউ কেউ হামলাকারীদের নীরব সমর্থন দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন পোশাক শ্রমিককে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগ তুলে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার ১২ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সূত্র: এএনআই, বিবিসি













