১. নাসির উদ্দিন, ২. আমিনুল ইসলাম, ৩. শওকতুল ইসলাম, ৪. সায়েদ আলী, ৫. এম নাসের রহমান, ৬.আব্দুল মান্নান, ৭. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ৮. আবদুর রব
জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মৌলভীবাজারের রাজনীতির মাঠ এখন চাঙা। জেলার চারটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা এলাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এখন নির্বাচন নিয়ে সরব। হাটবাজার, চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আসরে চলছে আলোচনার ঝড়, বিশ্লেষণ আর বিতর্ক।
জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার আগেই মৌলভীবাজারে নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু হয়। সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগে থেকেই নিজেদের অবস্থান থেকে প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সামাজিক ও সাংগঠনিক নানা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে বিএনপি জেলার চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে একাধিক আসনের মনোনয়ন নিয়ে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী আগেভাগেই তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে নির্বাচনি গণসংযোগ শুরু করে। সবমিলিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচন ঘিরে সরগরম পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলসহ (বাসদ) বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। তবে জাতীয় পার্টি থেকে এখনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারে প্রায় সব দলেরই সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারে নেমেছেন। হাটবাজার, গ্রামাঞ্চল, উঠান বৈঠক, ছোট-বড় সভা-সমাবেশ, সবখানেই তাদের সরব উপস্থিতি। অনেকে আবার বিয়ে, জানাজা বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। ভোটারদের মন বোঝার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন, নিজের পক্ষে ভোট চাইছেন।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী)
এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন আহমদকে। ২০১৮ সালেও তিনি একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামায়াতে ইসলামী এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছে আমিনুল ইসলামকে। জেলা জামায়াতের এই কর্ম ও শূরা সদস্য এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এই আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদ। খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হচ্ছেন লোকমান আহমদ। এ ছাড়া গণ-অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সহ-সম্পাদক আবদুর নূর তালুকদার, জাতীয় পার্টির আহমদ রিয়াজ নির্বাচন করবেন বলে আলোচনা আছে।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া)
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শওকতুল ইসলাম মৌলভীবাজার-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। বিএনপি থেকে এবার তার প্রথম নির্বাচন। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরে ২০০৩ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। শওকতুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে যাচ্ছি। মানুষের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কথা বলছি। প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। কোনো সমস্যা নেই।’
এখানে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আবেদ রাজা। তাকে মনোনয়ন দিতে স্থানীয়ভাবে তার সমর্থক নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভও করেছেন। আবেদ রাজা ২০০৮ সালে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। আবেদ রাজা বলেন, ‘আমি মনোনয়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছি। আমি আশাবাদী, দল বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।’
এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন দিয়েছে দলটির জেলা শাখার আমির সায়েদ আলীকে। তিনি বলেন, ‘জেলায় সবার সঙ্গে সবার ভালো সম্পর্ক আছে। এখানে একটি ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতি আছে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে, এই পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
জাতীয় পার্টি (জাফর) থেকে নির্বাচন করতে মাঠে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস খান। তিনি বলেন, ‘আমি ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে ছিলাম। বিএনপি থেকে প্রার্থী দিয়েছে। আমি নির্বাচন করব। এলাকায় ঘুরছি। মানুষের মধ্যে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’ এ ছাড়া এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান ও পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিমিউর রহমান চৌধুরী।
মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর)
জেলা সদরের এই আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমানকে। তিনি প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের বড় ছেলে। ২০০১ সালের উপনির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি কার্যক্রম খুব ভালোভাবে চলছে। সামগ্রিক পরিবেশ ভালো। কোনো সমস্যা নেই।’
জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মজলিসে শূরা সদস্য আবদুল মান্নানকে। তিনি এবার প্রথমবার সংসদ নির্বাচন করছেন। মানুষের ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া এই আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ বেলাল ও বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহর (ফুলতলী হুজুরের সংগঠন) সহ-সাধারণ সম্পাদক আলাউর রহমান (টিপু) ও সিপিবি জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জহরলাল দত্ত প্রচার চালাচ্ছেন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)
চা-বাগান অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এর আগে তিনি একবার স্বতন্ত্র ও দুবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা কমিটির সদস্য মহসিন মিয়া। শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবারের মেয়র মহসিন মিয়া ২০০১ সালে এখানে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।
মহসিন মিয়া বলেন, ‘আমি নির্বাচন করব। অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দল যাকে ভালো মনে করেছে, তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি তো জনগণের কাছে যাব। তারা যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকে বিচার করবে।’
জামায়াতে ইসলামী থেকে আসনটিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আবদুর রবকে। তিনি জামায়াতের সিলেট মহানগর শাখার সহকারী সেক্রেটারি। এনসিপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ। অন্যদের মধ্যে শ্রীমঙ্গলের বরুণা মাদ্রাসার মুহতামিম শেখ নূরে আলম হামিদী, গণ-অধিকার পরিষদ শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি হারুনুর রশীদ, বাসদের আবুল হাসান, সিপিবির জলি পাল সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন।

