• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

রাজনীতি

আজ আমি প্রলয়ঙ্করী জনসমুদ্রে জিয়াকে দেখলাম

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:৩৫
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:৩৫

আজ আমি প্রলয়ঙ্করী জনসমুদ্রে জিয়াকে দেখলাম

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

আমি জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী নই,
আধ্যাত্মিকতার কোনো মায়াবী কুহক কোনোদিন বিভ্রান্ত করেনি;
যুক্তিবাদী মস্তিষ্কে কেবল বস্তুনিষ্ঠ সত্যকেই আরাধ্য মেনেছি আজীবন।
অথচ আজ ৩০০ ফিটের এই দিগন্তবিস্তৃত জনসমুদ্রের প্রান্তররেখায় দাঁড়িয়ে আমার সমস্ত প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্য এক লহমায় ধুলিসাৎ হয়ে গেল।
দেখলাম এক অলৌকিক মহাকালের গর্ভ চিরে বিমানবন্দর থেকে হেঁটে আসছেন এক সুঠামদেহী পুরুষ, তার ঋজু মেরুদণ্ড যেন এই জরাগ্রস্ত আকাশের দিকে এক স্পর্ধিত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।
তিনি যখন পা ফেলছেন, পিচঢালা রাজপথের পঞ্জিকা থরথর করে কাঁপছে, যেন ভূগর্ভের কোনো অবরুদ্ধ শৈলশিরা বহু সহস্রাব্দ পর খুঁজে পেয়েছে এক আগ্নেয়গিরির মোহনা।
তার সেই সুঠাম পদচারণা, গম্ভীর চলন এ তো কোনো আগন্তুকের নয়!
এ তো অবিকল সেই মানুষের পদধ্বনি, যিনি একাত্তরের অমানিশায় বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন একটি ভূখণ্ডের সার্বভৌম মানচিত্র।
তারেক কি তবে কেবলই এক রক্তজ উত্তরাধিকার?
কেবলই এক বংশলতিকার পরবর্তী নাম? না,
আমি স্পষ্ট দেখলাম তারেক যখন অগ্রসর হচ্ছেন,
ধুলিকণার প্রতিটি রেখায় অঙ্কিত হচ্ছে জিয়ার পদচিহ্ন।
পুত্রের ওই তপ্ত নিঃশ্বাসে প্রবহমান সেই মহান পিতারই হিমশীতল জেদ আর আগ্নেয়গিরির দহন। মঞ্চে যখন তিনি দণ্ডায়মান হলেন, ৩০০ ফিটের এই অর্ধকোটি মানবের হাহাকার হঠাৎ এক অবিনাশী নিস্তব্ধতায় পর্যবসিত হলো।
সবার অক্ষিগোলক জুড়ে তখন এক কিংবদন্তিতুল্য বিভ্রম মানুষ কি তবে সত্যিই কালান্তরের সীমা পেরিয়ে ফিরে আসে এমন রাজকীয় তেজস্বিতায়?
তারেক যখন কণ্ঠস্বর প্রক্ষেপণ করলেন, তখন অপরাহ্নের রক্তিম আভা তার ললাটে পৌরাণিক মুকুটের মতো স্থির হয়ে রইল।
তিনি ভাষণ দিচ্ছেন, অথচ সেই কণ্ঠস্বর তো তার একার নয়!
সেই গম্ভীর, ধাতব ও প্রকম্পিত প্রতিধ্বনি, বাংলার খাল-বিলে, শ্রমিকের ঘামে আর কৃষকের লাঙলের ফলায় এক স্বনির্ভরতার জ্যামিতি এঁকেছিল।
তারেক বলছেন ‘আমি তোমাদেরই একজন’,
কিন্তু জনতা শুনছে জিয়ার সেই ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট।
পুত্রের মুখাবয়বে আজ রহস্যময় প্রলেপের মতো প্রগাঢ় হয়ে আছেন সেই অকুতোভয় পিতা।
একই অঙ্গে দুই প্রাণের এই যে দুর্মর সহাবস্থান,
তা যেন ইতিহাসের পাতায় এক নব্য রসায়ন।
আমি দেখলাম, তারেক যখন স্বীয় দক্ষিণহস্ত উত্তোলন করলেন ওই শূন্যমার্গের দিকে,
এক বিশাল ও কালজয়ী ছায়া এসে তাকে বেষ্টন করে নিলো পরম আবেশে।
সেই ছায়াটা জিয়ার, সেই ছায়াটা এক অবিনাশী নক্ষত্রের,
সেই ছায়াটা এক অপরাজেয় আদর্শের।
৩০০ ফিট আজ আর কোনো সাধারণ নগরীর রাজপথ নয়,
ওটা এক পুনর্জন্মের তীর্থভূমি; যেখানে জিয়াই ফিরে এসেছেন তারেক হয়ে
আরও ক্ষিপ্র, আরও দুর্ভেদ্য, আরও বজ্রসম।
জনতার নেত্রপল্লবে আজ অশ্রু নেই, আছে দাহ্য বারুদের অগ্নিশিখা।
তারা প্রত্যক্ষ করছে এক জননায়কের প্রত্যাবর্তন কোনো মসনদ দখলের জন্য নয়,
তা এক বিপন্ন জাতির হৃদপিণ্ডে স্পন্দন ফিরিয়ে দেয়ার এক ঐশ্বরিক দায়বদ্ধতা।
কিছু রক্ত কোনোদিন বিস্মৃতির অতলে লীন হয় না,
কিছু সংকল্প কোনোদিন মৃত্যুঞ্জয়ী সমাধি পায় না।
তারেক রহমান যখন কথা বলছেন, তার পশ্চাতে প্রোথিত হয়ে আছেন স্বয়ং কালপুরুষ।
আর সেই কালপুরুষের ললাটে জ্বলজ্বল করছে শহীদ জিয়ার সেই অক্ষয় স্বাক্ষর।
আজ এই প্রলয়ঙ্করী জনসমুদ্রের গর্জনে নব্য ও শৌর্যমণ্ডিত বাংলাদেশকে দেখলাম,
পিতা আর পুত্র একাকার হয়ে গেছে অজেয় বাংলাদেশ আলোকবর্তিকায়।