• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • [email protected]

রাজনীতি

যেকোনও মূল্যে গণতন্ত্রের ঝান্ডা ধরে রাখতে হবে: তারেক রহমান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:৪০
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:৪০

 

রাজশাহী প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশ গণতন্ত্রের দিকে নাকি অন্য দিকে যাবে– ১২ তারিখে দেশের মানুষকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণতন্ত্র ধরে না রাখতে পারলে মেগা প্রকল্প, জনগণের প্রকল্প হবে না। যেকোনও মূল্যে গণতন্ত্রের ঝান্ডা ধরে রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের জন্য কী কী করবেন জনসভায় সে বিষয়ে বলেন তারেক রহমান। ফারাক্কা ব্যারাজের বিপরীতে পদ্মা ব্যারাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ হলে সবাই সুবিধা ভোগ করবে। সেই সঙ্গে রাজশাহীর আমের জন্য হিমাগার এবং কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।

‘জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্প খালেদা জিয়ার শাসনামলে আরও বড় হয়েছিল, কিন্তু বরেন্দ্র প্রকল্প আজ বন্ধ। ক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্প চালু করতে চাই, খাল খনন করতে চাই, পদ্মা নদী খনন করতে চাই।’

নির্বাচনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে, ঝগড়া-ফ্যাসাদে যেতে চায় না। সেজন্য আমি কারও সমালোচনাও করছি না। আমি যদি কারও সমালোচনা করি, তবে কারও লাভ হবে? পেট ভরবে?’

কোথাও কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সুষ্ঠু তদন্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। সঠিক তদন্ত করে দেশের আইন অনুযায়ী বিচার করার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনের বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যাতে কেউ বানচাল করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকুন, সজাগ থাকুন। বিগত ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি। নিশিরাতের নির্বাচন দেখেছি, গায়েবি নির্বাচন দেখেছি, দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। পেরেছিলেন আপনারা? পারেননি, আপনারা ভোট দিতে। তারা চলে গেছে, যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে। ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে। কীভাবে এই নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, কীভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায়।’

এজন্য পুরো উত্তরাঞ্চলের প্রত্যেকটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তারেক রহমান রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নামেন। দলের প্রধান হিসেবে এটিই তার প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে ২০০৪ সালে তিনি রাজশাহী এসেছিলেন।

বিমানবন্দরে নামার পর কড়া নিরাপত্তার ভেতর দিয়ে তারেক রহমানকে আমচত্বর-সিটিহাট-তেরোখাদিয়া-লক্ষ্মীপুর-সিঅ্যান্ডবি-সার্কিট হাউস হয়ে মাদ্রাসা ময়দানের সামনে দিয়ে শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। মাজার জিয়ারত শেষে ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থলে যান। এ সময় হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন জানান তিনি। তখন নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

রাজশাহীতে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যানার-ফেস্টুন, স্লোগান আর উচ্ছ্বাসে মুখর পুরো এলাকা। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হয়েছেন লাখো নেতাকর্মী। নগরীর বিনোদপুর, তালাইমারি, আলুপট্টি, সাহেববাজার, সিএনবি এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন। তাদের হাতে বিভিন্ন রঙের ক্যাপ, টি-শার্ট, দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও পতাকা। ধানের শীষের স্লোগান দিচ্ছেন কর্মী-সমর্থকরা।

আশপাশের উপজেলার কর্মী-সমর্থকরা আসছেন বাস বা ট্রাকে চেপে। সমাবেশে রাজশাহী ছাড়াও নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরাও এসেছেন।

ক্ষমতায় গেলে কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে : তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘উত্তরাঞ্চল মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা। কৃষক ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে। সে কারণে কৃষকদের সহায়তায় প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক ও ব্যাংক ঋণসহ সরকারি সুবিধা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করতে পারলে রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান আমূল পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে শুরু করে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকরা এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচিসহ পুরোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো নতুন করে চালু করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর আমচাষিদের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে আম সংরক্ষণের জন্য কোনো আধুনিক হিমাগার নেই। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য এই এলাকায় হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক মিল-ফ্যাক্টরি ও শিল্পকারখানা স্থাপনে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

রাজশাহীর আইটি পার্ক কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখানে শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত অনেক তরুণ-তরুণী থাকলেও কাজের সুযোগ নেই। আইটি পার্ক সচল করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রত্যেক মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক মা এই কার্ড পাবেন এবং এর মাধ্যমে সরকার থেকে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা সংসারের চাপ সামলাতে পারেন।

চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের মানুষ দেশেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে পারে।

বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছরে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে জনগণের জন্য কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চায়। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান— সবাই একসঙ্গে বসবাস করবে, এটাই দেশের মানুষের চাওয়া। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে নির্বাচনের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ধাপে ধাপে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষক ও নারীদের সহায়তা এবং উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ
উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রাকেস)
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: [email protected]

© Copyright . শীর্ষ খবর ডট কম