জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশ আপাত মুক্তি পেলেও সংবিধানে স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ রয়েছে। আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে, সেজন্যই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।’
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই সনদ কাগজের কালো কালিতে ছাপা হলেও বাস্তবে এই সনদের প্রতিটি অক্ষর মানুষের রক্তের বিনিময়ে লেখা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হবে জাতি কোন পথে অগ্রসর হবে।’
জুলাই সনদ অন্তর্বর্তী সরকারের অ্যাজেন্ডা নয় দাবি করে আলী রীয়াজ বলেন, ‘এই সনদ নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে। গত তিনটি নির্বাচনকে নির্বাচন বলা অপমানজনক। নিশিরাতের ও ডামি নির্বাচন সম্ভব হয়েছে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে।
’
একটি সম্ভাবনাময়, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সময়ে যারা গুম, খুনের শিকার হয়েছেন, জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছেন ও আহত হয়েছেন, তারা আমাদের একটি দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। আমরা যেন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশটা এমনভাবে গড়ে তুলি, যেন আর কোনোদিন কোনো ফ্যাসিবাদী শাসক তৈরি না হয়।’
গণভোট নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে আলী রিয়াজ বলেন, ‘এই সনদে কোথাও ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়নি, কিংবা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা হয়নি। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
৩৯ পৃষ্ঠার সনদে এমন কোনো বিষয় নেই। বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি সংযুক্ত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ একটি বহুধর্মী, বহুভাষী ও বহুজাতি গোষ্ঠীর দেশ। সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই এই সনদের মূল লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
৩০০ সংসদ সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। জাতীয় মসজিদের ইমাম খতিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পালিয়ে গেছেন। কিন্তু শহীদের মায়েরা তাদের অজ্ঞাত সন্তানের জন্য অপেক্ষা করেছেন। শহীদ বীরেরা আমাদের একটা দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছেন। আমরা যারা বেছে আছি, যারা শহীদদের স্বপ্নকে বুঝতে পেরেছি, তাদের একটা দায় আছে। সেই দায়টা খুব স্পষ্ট। সেটি হলো ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসক আর তৈরি না হয়।’
জুলাই জাতীয় সনদে উত্থাপিত সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি বিষয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এগুলো পরস্পর সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়। এসব বিষয়কে চারটি প্রধান কাঠামোয় উপস্থাপন করে একটি মাত্র প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের জন্যই এই উদ্যোগ।’
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ আমাদের সবার জন্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ খুলে দেবে। যেখানে কোনো অন্তরাত্মা কাঁপানো বাহিনীর হাতে গুম হওয়ার ভয় থাকবে না, গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্ক থাকবে না, যেদিনের স্বপ্ন দেখেছিল আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা, যেদিন আনতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অকাতরে জীবন বিনিময় করেছে আমাদের ছাত্র-জনতা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আবদুল লতিফ, লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো তাজ উদ্দীন, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল, শাবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো সাজেদুল করীম ও সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।












