বিশেষ প্রতিনিধি, রাউজান
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১০নং পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের উত্তর গুজরা গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ মোহছেন আলী সড়ক’টি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছে।
সড়কটির অবস্থান রাউজান-নোয়াপাড়া সড়ক সেকশন-২ এর আওতাভুক্ত উত্তর গুজরা গ্রামের হিন্দু মন্দির ‘আদ্যাপীঠ’-এর উত্তর পাশের সীমানা প্রাচীর থেকে শুরু হয়ে পূর্ব দিকে মোহছেন আলী বাড়ীর ‘বাইতুল আমান জামে মসজিদ’ পেরিয়ে খালকুল পর্যন্ত বিস্তৃত।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে ভাঙা ইটের খোয়ার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। উত্তর গুজরা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এই সড়কটি এলাকার অন্যতম পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মসজিদগামী মুসল্লি, রোগী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু বছরের পর বছর প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ব্রিক সলিংয়ের অধিকাংশ ইট উঠে গেছে। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
উত্তর গুজরা গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও নব্বই দশক ছাত্রদল রাউজানের অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক এম এনাম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এই এলাকায় কোন প্রকার উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে। সড়ক কিংবা অন্যান্য সকল প্রকার স্থাপনা সমুহে সংস্কার পক্রিয়ায় এই গ্রামের মানুষ প্রতিহিংসা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাচীন এই সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্ত দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় এর অবস্থা অনেকটা চলাচল অনুপযোগী। শুষ্ক মৌসুমে ভাঙা ইটের কারণে এবং বর্ষাকালে কাদা-পানির জন্য চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। অথচ কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো নজর দেখা যাচ্ছে না।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের জন্য বহুবার দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, পুরোনো ব্রিক সলিং অপসারণ করে দ্রুত আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে সড়কটি স্থায়ীভাবে উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এতে উত্তর গুজরা গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মুসল্লি এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।’
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি শুধু একটি গ্রামের অভ্যন্তরীণ পথ নয়; এটি এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। তাই দ্রুত সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন না হলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশল বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়ক সংস্কারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মোহছেন আলী সড়কের সংস্কার হলে উত্তর গুজরা গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে।












