প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন, স্বাবলম্বী ও প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে বদ্ধপরিকর। অতীতের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পররাষ্ট্রনীতির ওপর নির্ভরতা থেকে বের হয়ে এসে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।’
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের সংকটকাল ও অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকে প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রবাসীদের সক্রিয় অবদান ছিল। রেমিট্যান্সের পাশাপাশি বিশ্বদরবারে প্রবাসীরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। অথচ একটি ক্ষুদ্র স্বার্থান্বেষী বা দালাল গোষ্ঠী প্রবাসীদের এই ত্যাগকে খাটো করে দেখার অপচেষ্টা করে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’
আগামী রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকারের মূল কাজ জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রাখা। আমরা জনগণের নির্বাচিত ও প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে আগামী স্থানীয় সরকারের যে কোনো নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তৃণমূলের গতিশীল নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।’
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম।
প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর হুমায়ুন কবির নিজ জেলা সিলেটে শুক্রবার প্রথম আসেন। হযরত শাহজালাল (রহ.) জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে বিএনপির সভায় যোগ দেন। এরপর তিনি নিজ বাড়ি ওসমানীনগরে যান।
জেলা বিএনপি আয়োজিত সভায় স্থানীয় উন্নয়ন বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন ও যোগাযোগের গুণগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বাজেটে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যৌথ পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে আম্বরখানা থেকে এয়ারপোর্ট রোড, হুমায়ূন রশীদ চত্বর এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তাগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’
ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের কাজের ধীরগতি ও মধ্যবর্তী নানা জটিলতা কাটিয়ে উঠে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কের কাজকে দ্রুত ত্বরান্বিত করতে হবে। আগামী ৩ বছরের মধ্যে এই কাজকে একটি সন্তোষজনক জায়গায় পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বালাগঞ্জ সড়ক সংস্কার, ‘গ্রীন সিটি’ প্রকল্পের আওতায় নগরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আখাউড়া-সিলেট রুটে নতুন রেল সংযোগের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার বিপ্লবে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’












