শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
গোপালগঞ্জে পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে মুসলিমা খানম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর জোর করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত স্বামী কুরবান মোল্লা ও তার বাবা নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ২৭ আগস্ট গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বড়ফা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুসলিমার মৃত্যু হয়। নিহত মুসলিমা খানম বড়ফা গ্রামের তোবারক মোল্লার মেয়ে। প্রায় ১১ বছর আগে একই গ্রামের নুরুজ্জামান মোল্লার ছেলে কুরবান মোল্লার সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মুসলিমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। বিভিন্ন সময়ে তার পরিবার থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ২০২২ সালে মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে কুরবান মোল্লার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে আদালতে মামলা করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে মুসলিমাকে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। তবে কিছুদিন পর আবারও টাকার জন্য তাকে নির্যাতন করা শুরু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৭ আগস্ট কুরবান মোল্লা ও তার পরিবারের লোকজন মুসলিমাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে জোর করে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। পরে মুসলিমা অচেতন হয়ে পড়লে কুরবান মোল্লা ও তাঁর বাবা নুরুজ্জামান মোল্লা তাঁকে একটি ভ্যানে করে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে বাড়ির উঠানে মুসলিমাকে ফেলে রেখে তারা পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
বিষয়টি দেখে স্থানীয় রিকু মোল্লা, কিচমত মোল্লাসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাদের গতিরোধ করেন। কেন তারা দৌড়ে পালাচ্ছেন- স্থানীয়রা জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মুসলিমাকে জোর করে বিষ খাওয়ানোর কথা তারা স্বীকার করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এসময় তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কুরবান ও নুরুজ্জামানকে থানায় নিয়ে যায়।
অচেতন অবস্থায় মুসলিমাকে প্রথমে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ২৮ আগস্ট মুসলিমার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় কুরবান মোল্লা ও নুরুজ্জামান মোল্লাসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।
হত্যার বিচারের দাবিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চন্দ্রদিঘলিয়া-মধুমতি সড়কের বড়ফা নতুন বাজারে আয়োজিত মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে মুসলিমার ভাই জুয়েল মোল্লা, মা মর্জিনা বেগম, প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম মোল্লা ও ইকরাম সরদার বক্তব্য দেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় কুরবান মোল্লা ও তার বাবা নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আ/আ












