রংপুর প্রতিনিধি
ছবি : সংগৃহীত
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) বেড চালু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, ‘অ্যানেস্থেসিয়ার চিকিৎসক না থাকায় এতদিন আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক পদায়ন হয়েছে। এখন আইসিইউ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সার্ভিস বিল্ডিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘হাসপাতালে আজকে নিয়ে তিন বার সফরে আসলাম। আমরা একটা নিয়মিত সভা করেছি। সেটার মেয়াদ সময় এক মাস চার দিন হয়েছে। আজকে আবারও আমরা সভা ডেকেছি। গত সভায় যেগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে ফলোআপ করার জন্য কতটা কার্যকরী হয়েছে, কতটা কার্যকরী হচ্ছে না, কেন হচ্ছে না- সেই বিষয়টা অনুসন্ধান করার জন্য আমি এসেছি।’
রংপুর মেডিকেলে আইসিইউ বেডের দাবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আপনারা জানেন যে এখানে আইসিইউ বেডের একটা দাবি ছিল। অ্যানেস্থেসিয়ার অভাবে আমরা দিতে পারিনি। ইতোমধ্যে পদায়ন হয়েছে, আমি চেষ্টা চালিয়েছি। আমি আশা করি আগামী এক মাসের ভেতরে আমরা নতুন করে আইসিইউ বেড চালু করতে পারব।’
দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৭টি বছর এই যে জুলুম এবং নানান অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে শুধু স্বাস্থ্যখাত কেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা খাতই ধ্বংসের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য খাতকে।’
হাসপাতালের জনবলসংকটের বিষয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘জনবল কাঠামো সারা বাংলাদেশেই সংকট হয়েছে। আমরা নিয়োগের মধ্যে চলে গেছি। অল্প সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গেলে এই হাসপাতালে যেগুলো চাহিদা আছে, আমরা সেগুলো দেওয়ার চেষ্টা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাই সহযোগিতা করেন, যাতে আমি এই হাসপাতালটাকে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার যে সুযোগ- সেগুলো তৈরি করে দিয়ে যেতে পারি। আমার আন্তরিকতা রয়েছে। আপনারা সবাই সহযোগিতা দিলে আমরা অল্প কিছুদিন পর আরও কিছু সেবা দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হব।’
চার খুনের তদন্ত প্রসঙ্গে
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গেও কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডটি মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডটা একদম মর্মান্তিক ছিল। নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড। এটি আমি গতবার যখন রংপুর সফরে এসেছিলাম, আমি ব্যক্তিগতভাবে তার বাড়িতে সফর করেছি। সেখানেও গণমাধ্যমের সামনে আমি কথা বলেছি যে, এই হত্যাকাণ্ডকে আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি নাই।’
তদন্তে সময় লাগার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদিও এই হত্যাকাণ্ডটার রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা আছে, তদন্তে আসা বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ তৈরি হচ্ছে, অর্থাৎ একটু সময় লাগতেছে। তবে আমরা চাই যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারে যারা দোষী এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনেও যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদেরকে উন্মোচিত করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসাটাই হচ্ছে আমাদের কাছে সবচেয়ে জরুরি।’
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘সে কারণে হয়তো একটু সময় লাগছে, কারণ এত বড় একটা হত্যাকাণ্ড এর আগে রংপুর শহরে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। আমরা সেই জন্য একটু সময় নিচ্ছি। আশাকরি এই অল্প দিনের মধ্যেই হয়তো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে একটা চার্জশিট দিয়ে দ্রুততম সময়ে আমরা বিচার কাজ শেষ করতে পারব।’
এর আগে তিনি বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।











