চট্টগ্রাম ব্যুরো
ছবি: সংগৃহীত
ছয় দফা দাবিকে জণগণের দাবি মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবে বলে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। কিন্তু ছয় মাস যাওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন করছে না। তাহলে কি বুঝা যায় বিএনপি জণগনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এখন গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই কিন্তু বিল দিতে হয়। আপনারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছেন। দেশের ৭০ ভাগ মানুষের সাথে বেঈমানি করেছেন। বৃহত্তর আন্দোলনে ডাক আসবে। এ লড়াইয়ে জণগণের বিজয় হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের লোকেরা সন্ত্রাসী, চুরি চামারিতে ঝাপিয়ে পড়েছে। চুরির করার সময় তারা বলছে, আওয়ামী লীগের লোক বলে চুরি করেছে। যখন ধরা পড়েছে দেখা গেলে তারা বিএনপির লোক। তারাই গুপ্ত।
তিনি বলেন, আমাদের এ আন্দোলন ঈদের পরের আন্দোলন নয়। বীর চট্টলা থেকে এ আন্দোলন শুরু। কেউ যদি টিকতে না পারে, তাদের আমরা রাখবো না। আগের ফ্যাসিস্ট সরকার যে পথে হেঁটেছেন এখন বিএনপিও সেপথে হাঁটছে।
চট্টগ্রামের মেয়রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে একজন মেয়র আছেন, তার মেয়াদ আছে ? নাই তিনি মেয়াদ উত্তীর্ণ। তাহলে এটি ফ্যাসিবাদি নয় ? উনার মেয়র হতে ইচ্ছে থাকলে আবার ভোটের মাধ্যমে আসবে, কিন্তু না তিনি থেকেই যাবেন।
ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ চট্টগ্রামের পৌঁছে রাত ৮টায়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। সকালের সমাবেশ শেষে সোয়া ৮টার দিকে বিপুলসংখ্যক গাড়ির বহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন জোটের নেতাকর্মীরা। লংমার্চের বহর নারায়গঞ্জ, কুমিল্লার, দাউদকান্দি, ফেনী অতিক্রম করে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রবেশ করে। চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ লালদীঘিতে পৌঁছার পর বীরমুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল অলি আহমদের সভাপতিত্বে রাতে শেষ সমাবেশে ১১ দলীয় নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির আরও বলেন, সরকার সব উল্টাপাল্টা কাজ করছে। এতো মানুষ মারা গেল, গুম হলো। আপসোস এখনও বিচার কাজ শুরু হয়নি। ৬ মাস হয়ে গেল। আপনারা বলছেন এখনও শিশু । আপনারা উল্টাপাল্টা করলে বিরোধী দল বসে থাকবে না।
আপনারা শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার চান? গুমের বিচার চান? ২৪শের আন্দোলন আহত নিহতদের বিচার চান? বিডিআর হত্যার বিচার চান? আয়নাঘর তৈরির বিচার চান? জল্লাদদের বিচার চান? সব বিচার আমরা আদায় করবো।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করতে ৩৩টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রত্যয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিল। আমাদের স্বপ্ন ছিল গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। কিন্তু গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় আসার পরও বিএনপি এতে গাদ্দারি করেছে, জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে তারা এখন বলছে, গণভোটের সিদ্ধান্ত তারা মন থেকে মানেনি; শুধু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার স্বার্থে মৌন সম্মতি দিয়েছিল। আপনারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরচারের রেখে যাওয়া সমস্যা নিয়ে বিরোধী দল সমস্যা সৃষ্টি করছে। আপনাকে বলতে চাই, আপনি সরকার চালাতে না পারলে বিরোধী দলের সাথে বসুন। সমস্যা সমাধানের সহায়তা নিন। আপনি স্বীকার করুন আপনি চালাতে পারছেন না। জনাব তারেক রহমান আপনি গণভোটের গণরায় মেনে না নিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের আসনে আপনি বরাদ্দ দিচ্ছেন না। এ সংসদকে একদলীয় ও সংসদীয় স্বৈরচারী শাসন কায়েম করেছেন। এ স্বৈরচারী শাসন কায়েক করেছেন চট্টগ্রামের আরেক লোক সালাউদ্দিন সাহেব। সংসদকে কার্যকর করেন, সংবিধান কার্যকর করুন। পতিত স্বৈরচার আসলে আপনিও রক্ষা পাবেন না। আপনার বাবার মতো ভুল করবেন না। দেশের মানুষের কর্মসংস্থান করেন, গ্যাস দিন, বিদ্যুৎ দিন। আমরা এখনও সংসদে আছি। পরের অধিবেশনে যাবো কিনা জানি না। আপনি ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে পরিচালনার রাস্তা বের করুন। না হয় ক্ষমা চান জনগণের কাছে।
এনসিপি কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম বলেন, মহিষকে ঘাস খাওয়াতে হলেও চাঁদা দেওয়া লাগে। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। সরকার গঠনের ৬ মাসে চোরা বালিতে ডুবে গেছে। যতই নড়াচড়া করেন ততই ডুবে যাবেন। আমাদের লক্ষ্য থেকে কেউ সরাতে পারবে না।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, লংমার্চে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নিয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা ও সংবর্ধনা কর্মসূচিতে অংশ দেন নেতাকর্মীরা। কুমিল্লায় পথসভা শেষ করে বিকাল ৪টায় গাড়িবহরটি চট্টগ্রামের দিকে যাত্রা করে।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিকে সামনে রেখে এ লংমার্চের আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করা।
জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন, সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনগণের এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। এ কারণে সংসদের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি নিতে হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন জোটের নেতারা।
সকাল থেকেই শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় জোটের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।










