শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
ভারত-পাকিস্তান, ইরান, ইরাকসহ দেশ-বিদেশের প্রায় তিন হাজার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে রাজধানীতে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ পীর-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক ও সমন্বয়ক ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুর আয়োজিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন প্রসিদ্ধ দরবার, খানকা শরীফ ও সুফি তরিকার পীর-মাশায়েখগণ অংশ নেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন থেকে সুফি তরিকার অনুসারীদের মধ্যে ঐক্য জোরদার, হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সুফিবাদ ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে বিদ্বেষ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সুফিপন্থীদের সংহতির ওপর জোর দিয়ে বক্তব্যে ইমাম কুদরত এ খোদা বলেন, একটি দরবার কোনো সমস্যায় পড়লে অন্য দরবারের অনুসারীদেরও তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, “পীর-মাশায়েখরা আছেন বলেই আজও বাংলার জমিনে রাসুল (সা.)-এর মহব্বত জাগ্রত আছে।”
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে একশ্রেণির মানুষের বিরোধিতা ও অপপ্রচারের সমালোচনা করে কুদরত এ খোদা বলেন, হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবাসার জন্য আশেকে রাসুলদের কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই। তিনি দেওয়ানবাগ শরীফ নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগেরও জবাব দেন এবং সংশ্লিষ্টদের সরাসরি এসে এই দরবারের কার্যক্রম দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দেওয়ানবাগ শরীফে শরিয়তের বাইরে কোন কার্যক্রম চলে না।”
ইমাম কুদরত এ খোদা বলেন, পীর-মাশায়েখ ও তরিকাপন্থীদের এই সম্মেলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। “তরিকাপন্থীরা একত্রিত হয়েছে হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবেসে।”
অনুষ্ঠানে পীর-মাশায়েখরা বলেন, বর্তমান সময়ে বিভাজন অতিক্রম করে পীর-মাশায়েখ ও সুফি অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। বক্তারা ইমাম কুদরত এ খোদার উদ্যোগে বিভিন্ন তরিকা ও দরবারের প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে আনার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
তারা বলেন, ইমাম কুদরত এ খোদা হুজুর নেতৃত্ব দিয়ে পীর-মাশায়েখদের একত্রিত করেছেন এবং উপমহাদেশের সুফিদের মধ্যে ঐক্যের ক্ষেত্র তৈরি করছেন।
ইরানের আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী রা’দ ইরানের সুফিদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন পালনের বিরোধিতা করেন, তাদের অনেকেই নিজেদের সন্তানদের জন্মদিন পালন করেন।
ভারত থেকে আজমীর শরীফের সৈয়দ সালাউদ্দিন চিশতি, হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া দরগাহের সৈয়দ আনিস নিজামী ও সৈয়দ ফাইজ নিজামী এবং পাকিস্তান থেকে দরগাহে হজরত বাবা গানসকল মাসুদের দিওয়ান আহমেদ মাসুদ, দরগাহে হজরত শাহ জাফর আলির পীর সৈয়দ আমীর হোসেনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া বাংলাদেশের মাইজভান্ডার, সুরেশ্বর, শেরে বাংলা, সাইফিয়া, মোহাম্মদীয়া, হাক্কানি, চিশতিয়া পাক পাঞ্জাতন, পরদেশি, সুফি আস্তানা, দয়াময়, নুরে মদীনা, চিশতিয়া নিজামিয়া, করন নগর, মাওলা ভরসা, ছতুরা, ভুলুয়া হায়দারি, কুতুবদিয়া পাক দরবার শরীফ সহ বিভিন্ন প্রসিদ্ধ দরবারের পীর-মাশায়েখগণ বক্তব্য রাখেন।









