শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
শিশুশ্রম নিরসনে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ, বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ, মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু নিয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একই সঙ্গে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রশাসনের সর্বস্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) আয়োজিত ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
কায়সার কামাল বলেন, সংকটকালে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশে অনেক ভালো আইন থাকলেও সেগুলোর প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। আইনের প্রয়োগ যারা করবেন, তাদের অনেক সময় আপোশ করতে দেখা যায়। প্রভাবশালীদের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা হলেও নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। অথচ তারা জনগণের করের অর্থে বেতন পান। একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নির্বাহী বিভাগের কর্মকাণ্ডের কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান জানান। এবং শিশু অধিকার নিয়ে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করারও পরামর্শ দেন তিনি।
সংলাপে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসনে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম বন্ধকে এতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, বর্তমানে ৪৩টি কাজকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিশুশ্রম বন্ধের পাশাপাশি তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিম বলেন, শিশুশ্রম নিরসনের বড় চ্যালেঞ্জ অনানুষ্ঠানিক খাত। শিশুকে কাজ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য শিশুশ্রম নিরসন কর্মসূচিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।













