আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার ও শনিবারের মতো বিক্ষোভ-আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ কর্মীদের দ্বারা যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিন নারী সাংবাদিক। এই তিন নারী সাংবাদিক শনিবার পুলিশের কার্যকলাপের দৃশ্য ধারণ করছিলেন। এ সময়ই তাদের কাজে বাধা দেয়ার পাশাপাশি পুলিশ তাদের অশালীনভাবে স্পর্শ করেছে। বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লি পুলিশের কর্মীদের দ্বারা নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাব চেয়েছেন কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী। ছাত্র সংগঠন আইসা নারী সাংবাদিকদের হেনস্তা করার অভিযোগ তুলে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভারতের প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের আচরণের বিষয়ে ‘হতবাক ও মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানিয়েছে।
নারী সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন, মামলা দায়ের করতে তারা থানায় গিয়েছিলেন, কিন্তু অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি। পরে অবশ্য দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযোগগুলো পেয়েছেন এবং ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সেগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে’।
এক নারী সাংবাদিক জানিয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার (এসিপি) তাকে যৌন হেনস্তা করেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ওই কর্মকর্তা তাকে অশালীনভাবে তার শরীর স্পর্শ করেছেন।
তেলাপোকা পার্টি বিক্ষোভের মধ্যেই বেশ কয়েকজন সাংবাদিক পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে অবস্থানে বসেছেন। তাদের দাবি, নারী সাংবাদিককে যৌন হেনস্তা করার জন্য দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। একই দাবিতে সরব হয়েছেন সিপিআইএম নেত্রী বৃন্দা কারাটও। তিনি বলেছেন, “উনি একজন এসিপি। তিনি একজন মহিলার গায়ে হাত দিচ্ছেন! তিনি কি প্রটোকল জানেন না? উনি কী করে এটা করার সাহস পেলেন? এখন পুলিশ এইআইআর নিতে চাইছে না।”
ভারতের প্রেস কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গণতন্ত্রে এ ধরনের আচরণ স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেয়া যায় না। সাংবাদিকদের নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে কাজ করার এবং বিভিন্ন বিষয়ে সমবেত হওয়া মানুষদের কার্যক্রম নথিবদ্ধ করার সুযোগ দিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দিল্লি পুলিশকে অবশ্যই ওই নারী সাংবাদিকের অভিযোগের বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন গণমাধ্যমকর্মীরা কোনো ধরনের আগ্রাসন বা হুমকির মুখে না পড়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’
লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে বলেছেন, ‘যে সরকার একজন নারীর অভিযোগ নথিভুক্ত করতেও ভয় পায়, তারা আসলে কীসের সুরক্ষা দিচ্ছে? দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। অমিত শাহজি, আপনি কোথায়? এর জবাব আপনাকে দিতেই হবে।’
এদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার ও শনিবারের মতো বিক্ষোভ-আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে রোববারেও। যুব কংগ্রেস ও নাগরিক সমাজের দু’টি মিছিল যন্তর মন্তরের দিকে যাবার সময় পুলিশ বাধা দিয়েছে। এজন্য ৫০০০ পুলিশ, র্যাফ, আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তরমুখী সমস্ত রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ, কেরল ভবনের দিকে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। অশোক রোড এলাকাতেও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দু’টি কর্মসূচিরই কোনো অনুমতি নেই।
অন্যদিকে রোববার মুম্বইয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যৌথ প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে। ‘বিরাট গর্জন মার্চ’ (মহাগর্জন মিছিল) নামে পরিচিত এই মিছিলে কংগ্রেস এবং শারদ পাওয়ার- নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি)’র নেতারাও অংশ নিয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় কর্মসূচি বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এ কথিত অনিয়মের জেরে বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ বা তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। উদ্ধব ঠাকরে ভোটার তালিকা সংশোধনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। উদ্ধব প্রশ্ন করেন, “ভোটার তালিকা থেকে বাংলাদেশিদের বাদ দেয়ার উদ্দেশ্যেই যদি এসআইআর চালানো হয়ে থাকে, তবে সরকার অবৈধভাবে বসবাসকারী কতোজন বাংলাদেশিকে খুঁজে পেয়েছে?”মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার বিজেপি’র একটি অস্ত্র।”













