নিজস্ব প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানকে ফুলেল শুভেচ্ছা, স্মারক সম্মাননা ও উপহারসামগ্রী প্রদান করেছে মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে ফুলের তোড়া, স্মারক সম্মাননা ও গিফট বক্স তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উপদেষ্টা মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সভাপতি এস এম মোমো এবং সানজিদা আক্তার।
অনুষ্ঠানে মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, হয়রানি প্রতিরোধ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকা সমাজে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে।
তারা বলেন, দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, তাদের উৎসাহিত করা নাগরিক সমাজেরও দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
সম্মাননা গ্রহণকালে উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় পুলিশ সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে সচেষ্ট। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সামাজিক সংগঠনগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নারী ও শিশুদের কল্যাণে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের উপদেষ্টা মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রের সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পুলিশের সঙ্গে নাগরিক সমাজের সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ভবিষ্যতেও নারী ও শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইতিবাচক ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে সংগঠনটি পাশে থাকবে।
সভাপতি এস এম মোমো বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের সৌজন্য ও সম্মাননা বিনিময় পুলিশ-নাগরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও জননিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর সফলতা কামনা করেন।













