শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি কিছু বিতর্ক ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসছেন—এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে হিসাব-নিকাশ। দলীয়ভাবে কারও নাম এখনো চূড়ান্ত না হলেও মাঠের রাজনীতি বিশ্লেষণে সাবেক যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে।
দলীয় সূত্র মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতাকে গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিতর্ক এড়িয়ে চলা নেতৃত্ব সামনে আনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
জানা গেছে, সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন, মিজানুর রহমান রাজ, আবুল হাসান টিটু, আইয়ুব আলী ও তসলিম আহসান মাসুমের নাম।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘প্রত্যাশা হলো—যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন, যাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ বা সুনাম নষ্ট হয়নি, এমন ত্যাগী, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদরা কমিটিতে স্থান পাবেন। তাদের যুবদলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে আনা হলে, ইনশাআল্লাহ যুবদল একটি ভালো সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘গত কমিটিতে আমি সদ্য সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলাম। এর আগে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছি। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে, তাহলে আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ হবে। জিয়াউর রহমানের আদর্শের ভাইদের নিয়ে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করব। দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও ধান্দাবাজদের থেকে দলকে কীভাবে সুন্দর ও গতিশীল করা যায়, সেই চেষ্টাই করব।’
স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, “দলের প্রকৃত কর্মী সেই, যে সুদিনে চরিত্র হারায় না এবং দুর্দিনে পালিয়ে যায় না।” —এমন নেতাকর্মীদের নিয়ে আমি যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরকে সাজাতে চাই।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকাদের নামের তালিকাও বেশ বড়। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুলহাস উদ্দিন, বাছিরুল ইসলাম রানা, মেহেদী হাসান রুবেল, আইয়ুব আলী, আমিনুল হক হিমেল, ফরহাদ আলী সজীবসহ আরও অনেকেই রয়েছেন এ তালিকায়।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুলহাস উদ্দিন। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে পথচলা এই নেতার রাজনৈতিক জীবনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও তিনি দলীয়ভাবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং পুলিশের গুলিতে আহত হন।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুলহাস উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ২০০৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৭টি মামলার শিকার হয়েছি। এসব মামলায় তিনবার জেলও খাটতে হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দলীয়ভাবে সক্রিয় অংশগ্রহণের সময় ১৯ জুলাই শান্তিনগর ও কাকরাইলে আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হই।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। জনকল্যাণমূলক কাজ করার সুযোগ পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার তার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য যতটুকু জনকল্যাণমূলক কাজ করা প্রয়োজন, সেগুলো নিয়েই আমরা ব্যস্ত রয়েছি। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে, তাহলে সরকার যেভাবে চাচ্ছে, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে চাচ্ছেন, আমরা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে একটি মানবিক সংগঠনে পরিণত করব।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক (সুপার ফাইভ) বাছিরুল ইসলাম খান রানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, দলের পক্ষ থেকে যদি আমাকে মূল্যায়িত করা হয় তাহলে যুবদলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো রয়েছে (চাঁদাবাজি-দখলবাজি), অবশ্যই সেগুলো ওভারকাম করে সামনে ভালোকিছু কাজ করবো এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করবো।
পরিচয় প্রকাশ না করা শর্তে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির এক সিনিয়র নেতা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন কমিটি শুধু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্বকে তৃণমূল কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচিতে সাংগঠনিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাদের ওপর আস্থা রাখে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে কেউ দীর্ঘদিন যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয়, কেউ আবার ছাত্রদল থেকে উঠে এসেছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত কোন ধরনের সাংগঠনিক সমীকরণে নতুন কমিটি গঠিত হয়, সেদিকেই নজর নেতাকর্মীদের।
এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ কমিটি বিলুপ্ত করা হয় বলে সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট












