শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম এবং অসৎ সিন্ডিকেটের কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর অবস্থা গভীর সংকটে। প্রতিদিনই তাদের মৌলিক চাহিদা খাদ্য, পুষ্টি, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো কাটছাঁট করতে হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে এ সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করছে। ফলে দেশে দিন দিন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর। উচ্চ মূল্যস্ফীতি কেবল দৈনন্দিন বাজারেই আঘাত হানছে না, বরং ব্যাংক ডিপিএস, পেনশন ও সঞ্চয়পত্র ভাঙতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মূল্যস্ফীতির এই লাগামহীন দৌড় এবং গাণিতিকভাবে প্রকৃত আয়ের পতন রোধে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাত উভয় ক্ষেত্রেই বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাগজে-কলমে মূল্যস্ফীতি কম দেখালেও কার্যত টানা তিন বছর ধরে তা ১০ শতাংশ বা এর বেশি। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯- ১০ শতাংশ বা তার ওপরে থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের উপার্জন বাড়েনি। ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় এবং পণ্য বা সেবা কেনার ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমেছে। এখন অনেকের সঞ্চয় দূরের কথা, দৈনন্দিন পুষ্টিতেও বড় ধরনের কাটছাঁট করতে হচ্ছে। আবার অনেকেই ব্যয় মেটাতে ঋণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে জিডিপিতে মোট ভোগ ব্যয়ের হার ৭৪ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৮ দশমিক ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ভোগ ব্যয় বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে কয়েক বছর ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। টানা চার বছর ধরে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সর্বশেষ আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।ইতিহাস পড়ুন
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচের চাপ বেড়েছে। ফলে আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে ভোক্তাদের সঞ্চয়ের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে নানাভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের দিনমজুর, কৃষি ও নির্মাণশ্রমিকরা। এ অবস্থায় বেতন বাড়ুক না বাড়ুক, দ্রুত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে নাগরিকদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করাই এখন অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই সাধারণ মানুষের ওপর থেকে চাপ দূর করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান সময়ে অসাধু সিন্ডিকেট দমন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরা পুরো বাজারব্যবস্থাকে কঠিন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেবল মুদ্রানীতি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে হবে। দেশে দরিদ্রের সংখ্যা বাড়ছে; যা খুবই উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহের পরিধি আরও বাড়াতে হবে। আশা করছি, সরকার সাধারণ মানুষের নীরব সংকোচন অবস্থা আমলে নিয়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।













