শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত
পাহাড়ে রাজনৈতিক-সামাজিক নানা সংকট সমাধানে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, পার্বত্য শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যেভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিনটি পৃথক জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবিও তুলেছে তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পুরান পল্টন মোড়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা এ দাবি জানিয়েছে।ঘড়ি কিনুন
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপক শীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, হিল উইমেনস ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চংগা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ)-এর সভাপতি গৌতম শীল এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতারা। এ সময় নেতাকর্মীরা পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করেন; তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্র সচিবকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি আছে পাহাড়ি অঞ্চলের ছাত্র-যুবকদের। তাই এই কমিটিগুলোর বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে তারা।
তাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে পাহাড়ি কোনো নেতাকেই আসীন করতে হবে।
পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর করা; চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ; পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করার দাবি তুলেছেন পাহাড়ি যুবক, ছাত্ররা।
সমাবেশে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শোষণ ও বঞ্চনার অবসানের প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমানে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করছে।
সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। অবিলম্বে চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।













